মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেয়ে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন মিসরীয়-আমেরিকান ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাঈদ। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনটিতে লড়েন ৪২ বছর বয়সী এই প্রগতিশীল নেতা।

১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর মিশিগানের রোচেস্টার হিলসে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল আল-সাঈদ। তার পিতা-মাতা মিসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়েছিলেন। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি রোডস স্কলার হিসেবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন। আল-সাঈদ তার স্ত্রী সারা ও দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে অ্যান আর্বারে বসবাস করেন।

রাজনীতিতে পুরোদমে আসার আগে তিনি চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শহরের স্বাস্থ্যসেবা পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদের জন্য ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে লড়ে গ্রেচেন হুইটমারের কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওয়েন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানব ও ভেটেরান্স সেবা বিভাগের পরিচালক ছিলেন তিনি।

২০২৬ সালের আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারিতে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে হারিয়ে সিনেট নির্বাচনের মনোনয়ন পান আল-সাঈদ। তার প্রচারণায় সমর্থন দিয়েছিলেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্টেজ এবং মিশিগানের প্রতিনিধি রাশিদা তলাইবের মতো প্রগতিশীল নেতারা। প্রচারণায় তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা বা 'মেডিকেয়ার ফর অল', আবাসন ব্যয় কমানো, রাজনীতিতে ধনী দাতাদের প্রভাব হ্রাস এবং কর্মজীবী পরিবারের অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আল-সাঈদ ইসরায়েলকে দেওয়া নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তার সমালোচনা করেন এবং গাজায় সামরিক অভিযানকে 'গণহত্যা' হিসেবে আখ্যা দেন। সাধারণ নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে পরাজিত হ্যালি স্টিভেন্স দল ছেড়ে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন দিলেও শেষ পর্যন্ত আল-সাঈদের জয় আটকায়নি। এছাড়া প্রচারণার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে তার ধর্ম ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণ করা হলেও তা তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে কিথ এলিসন, রাশিদা তলাইব কিংবা ইলহান ওমরের মতো মুসলিম নেতারা দায়িত্ব পালন করলেও মার্কিন সিনেটে আবদুল আল-সাঈদের এই বিজয় মুসলিম আমেরিকানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করেছে।

সূত্র: The Business Standard