নিউ ইয়র্ক সিটির মালিকানাধীন জমিতে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর অননুমোদিত অবস্থান ও অভিযান পরিচালনা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি। সংস্থাটি সিটি লট ব্যবহার অব্যাহত রাখলে নিউ ইয়র্ক সিটি প্রশাসন আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (DHS) সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন, ভারপ্রাপ্ত আইসিই পরিচালক ডেভিড জে. ভেনচুরেলা এবং আইসিই নিউ ইয়র্ক ফিল্ড অফিসের পরিচালক কেনেথ জেনালোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে মেয়র স্পষ্ট করেন যে, অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো অভিযানের প্রস্তুতির জন্য সিটি তার সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের যেন সিটির লট ব্যবহার থেকে বিরত রাখা হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা জারির দাবি জানানো হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আইসিই কর্মীরা ব্রঙ্কসের ভ্যান কর্টল্যান্ড পার্কের একটি পার্কিং লট এবং কুইন্সের ফ্লাশিং মেমোজ করোনা পার্কের পশ্চিম পাশে ১১১ নম্বর স্ট্রিটের কয়েকটি কর্মীবিহীন সিটি লটে গাড়ি পার্ক করে এবং বৈঠক পরিচালনা করে। কুইন্সের ওই লটগুলোর পাশেই সিটি পরিচালিত একটি প্রিস্কুল এবং বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন শত শত শিশু ও পরিবার যাতায়াত করে।
এর পাশাপাশি এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৩-এর অধীনে নিউ ইয়র্ক সিটি পার্কস বিভাগের কর্মীদের জন্য নতুন একটি নীতিমালা ঘোষণা করেছে প্রশাসন। স্থানীয় নয় এমন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা—যেমন আইসিই—সিটির পাবলিক বা নন-পাবলিক পার্ক সম্পত্তিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে কর্মীরা কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন, তা এই নীতিমালায় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
মেয়র মামদানির এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল, অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস এবং সিটি প্রশাসনের কর্মকর্তারা। গভর্নর হোকুল উল্লেখ করেন, এর আগে রাজ্য ও স্থানীয় পুলিশ যেন ফেডারেল দেওয়ানি অভিবাসন কার্যক্রমে সহায়তা না করে, সেজন্য তিনি 'লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট' আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন। সিটি করপোরেশন কাউন্সেল স্টিভেন ব্যাংকস নিশ্চিত করেছেন, ডিএইচএস সিটির আপত্তির বিষয়ে অবগত হওয়ার পরও এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলে প্রশাসন আদালতে যেতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নিউ ইয়র্ক সিটি ও ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মধ্যকার আইনি সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। সিটির পাবলিক পার্ক ও সংলগ্ন লটগুলো যেন অভিবাসন অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে না পারে, সেজন্য সিটি প্রশাসন তাদের কর্মীদের নতুন কর্মপদ্ধতি ও প্রশিক্ষণের আওতায় আনছে।
বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রেক্ষাপট
কুইন্সের ফ্লাশিং মেমোজ পার্কসহ যেসব এলাকার পার্কিং লটে আইসিই উপস্থিতি দেখা গেছে, সেগুলোর আশপাশের নেইবারহুডে বহু বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবার বাস করে। পার্ক, প্রিস্কুল বা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে অভিবাসীদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছিল, সিটির এই অবস্থানের ফলে সেখানে সুরক্ষা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
আপনার কী করা উচিত?
- 1অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি সহায়তা বা পরামর্শের প্রয়োজন হলে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়রস অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্স (MOIA)-এর সার্বক্ষণিক ফ্রি ও গোপনীয় হটলাইন ১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
সূত্র: NYC.gov












