নিউইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে এবার রেকর্ডসংখ্যক ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, এবারের ভোটার তালিকায় ৩৫ হাজার ২১৫ জনের নাম রয়েছে। ২১টি পদের বিপরীতে মোট ৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচনটি ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও দুর্গাপূজার অষ্টমীর কারণে এক সপ্তাহ পিছিয়ে ২৫ অক্টোবর পুনর্নির্ধারণ করা হয়। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে বলে নির্বাচন কমিশনার আবু নাসেরের বরাতে জানা গেছে।
সংগঠনটির ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ ভোটার তালিকা হলেও কেন্দ্রে উপস্থিতির বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। আগের নির্বাচনে প্রায় ১৮ হাজার ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছিলেন ১০ হাজারের কম মানুষ, যা ছিল ৫৫ শতাংশেরও নিচে। ফলে তালিকা প্রায় ৯৪ শতাংশ বড় হলেও নিবন্ধিত সদস্যদের কতজন শেষ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে যান, সেটিই মূল মাপকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভোটারসংখ্যার কিছু ভিন্নতা দেখা গেছে। কিছু প্রতিবেদনে ৩৫ হাজার ২৬৯ বা ৩৫ হাজার ৩২১ জনের কথা বলা হয়েছে, আবার একটি প্রতিবেদনে ৪৫ হাজার ভোটারের দাবিও করা হয়েছিল। তবে যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সর্বশেষ হিসাবে ৩৫ হাজার ২১৫ জনের কথাই প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া সদস্য ফি পরিশোধ নিয়ে কিছু গুঞ্জন ও সমালোচনামূলক দাবি উঠলেও তার পক্ষে কোনো প্রকাশ্য নথি বা স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনের আগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীরা একটি প্রকাশ্য বিতর্কে অংশ নেন। ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ডের আয়োজনে এবং সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই বিতর্কে সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ও আজমল হোসেন কুনু এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, ফিরোজ আহমেদ ও রাব্বি সৈয়দ অংশ নেন। সেখানে সংগঠনের উন্নয়ন, আর্থিক স্বচ্ছতা, ভোটার-প্রক্রিয়া সংস্কার এবং নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করার বিষয়ে প্রার্থীরা নিজ নিজ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
নিউইয়র্কের অন্যতম বৃহৎ ও পুরোনো প্রবাসী সংগঠনটিতে এবার রেকর্ডসংখ্যক ভোটার নিবন্ধিত হওয়ায় নেতৃত্বের জবাবদিহি, নির্বাচন পরিচালনা এবং ভোটার উপস্থিতির প্রকৃত হার ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রেক্ষাপট
নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের বৃহত্তম সামাজিক প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্ব নির্বাচনে এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠনের সদস্যপদ, সামাজিক সেবা এবং নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে নির্বাচিত নেতৃত্বের নীতি সরাসরি প্রবাসীদের ওপর প্রভাব ফেলে।
আপনার কী করা উচিত?
- 1২৫ অক্টোবর নির্ধারিত পাঁচটি ভোটকেন্দ্রের যেকোনোটিতে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে ভোট প্রদান করা যাবে।
সূত্র: California Chithi











