নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে রাজনৈতিক হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক প্রতিবাদের নামে বিদেশের মাটিতে একজন শীর্ষ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্বকে এভাবে হেনস্তা করার ঘটনা দেশের সার্বিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মত প্রকাশ করা হচ্ছে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নীতি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ভিন্নমত জানানোর অবকাশ থাকলেও আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ ব্যক্তিত্বকে জনসমক্ষে অপদস্থ করা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বহির্বিশ্বে এটি নিজেদের জাতীয় ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ্যে অপমান করার দৃশ্য তৈরি করে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের রাজনৈতিক সহনশীলতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসের রাজনীতিতে আদর্শিক চর্চার চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও চরমপন্থী আচরণের প্রভাব বাড়তে দেখা যাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন বিদেশের মাটিতেও স্থানান্তরিত হচ্ছে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার চেয়ে অপমান করাকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই ধরনের সহিংস বা আক্রমণাত্মক আচরণ জাতীয় পুনর্মিলনের প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে এবং একটি দলের প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি হ্রাস করে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রুজ্ঞান করার প্রবণতা বহাল থাকলে তা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
বিদেশের মাটিতে শীর্ষ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্বকে হেনস্তা করার ঘটনা দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিপক্বতা ও সামাজিক সহনশীলতা নিয়ে নেতিবাচক বার্তা দেয়।
বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশকে মূল্যায়ন করে থাকে। প্রবাসে মার্জিত ও দায়িত্বশীল উপায়ে ভিন্নমত বা প্রতিবাদ না জানিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।
সূত্র: Daily Manab Zamin











