নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ২৫ অক্টোবরের নির্ধারিত নির্বাচন আদালতের নির্দেশনায় স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। সংগঠনের সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাখ্যান ও প্রার্থিতা বাতিলের অভিযোগে করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক কুইন্স কাউন্টি আদালত ভোটের মাত্র দুই দিন আগে, ২৩ অক্টোবর, নির্বাচন আয়োজনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ওসমান চৌধুরী। এর ফলে তিনি সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন। গত ২৮ আগস্ট সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি জানানো হয়। ওসমান চৌধুরীর দাবি, আবেদন ও অর্থ গ্রহণ স্বীকার করার পরও গঠনতন্ত্রের নির্দিষ্ট ধারা ও চলমান মামলার অজুহাতে তাঁর সদস্যপদ বাতিল করা হয়। এছাড়া তিনি ভোটার তালিকা প্রণয়নে অসংগতির অভিযোগ তুলে দাবি করেন, একই ঠিকানা ও একটি নির্দিষ্ট ফোন নম্বর ২৭৫ জনের নামেও ব্যবহার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৩৫ হাজার ২৪২ জন ভোটার তালিকাভুক্ত ছিলেন। কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসের পাঁচটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের পূর্ণ প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। সংগঠনটির ২১ সদস্যের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে দুটি প্রধান প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল—একটি প্যানেলে বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী এবং অন্য প্যানেলে সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও মাঠে ছিলেন।

ভোটগ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়েছে। আদালতের এই আদেশ মামলার চূড়ান্ত রায় নয়। আগামী ৫ নভেম্বর সকাল ১০টায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। সেদিনের শুনানির ওপরই মূলত নির্ভর করবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, নাকি নির্বাচনের নতুন কোনো নির্দেশনা আসবে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ এই সামাজিক সংগঠনের নির্বাচনে ৩৫ হাজারেরও বেশি ভোটার তালিকাভুক্ত ছিলেন। আদালতের সাময়িক স্থগিতাদেশের কারণে চলমান নির্বাচনী কার্যক্রম থমকে গেছে এবং সদস্যপদ ও ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো এখন বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় এসেছে।

বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রেক্ষাপট

নিউইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যক্রম ও নেতৃত্ব প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় সংগঠনটির ৩৫ হাজারের বেশি সদস্য ও ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সাময়িকভাবে আটকে গেল।

আপনার কী করা উচিত?

  1. 1বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সদস্য ও ভোটারদের আগামী ৫ নভেম্বর আদালতের শুনানির পরবর্তী নির্দেশনা ও নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।

সূত্র: Parichoy