কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, কাজ এবং সমস্যার সমাধানের ধরন বদলে দিচ্ছে। এমন বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল দায়িত্ব শুধু তথ্য সরবরাহ করা নয়, বরং সঠিক প্রশ্ন তোলা, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখানো বলে জানিয়েছে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিকে চিন্তার বিকল্প না বানিয়ে শেখার সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির মতে, চাকরির বাজারের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কেবল পুঁথিগত বিদ্যার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদে প্রাসঙ্গিক থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের অভিযোজন ক্ষমতা, ডিজিটাল জ্ঞান, দলগত কাজ ও ব্যবহারিক দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে অ্যাকাডেমিক পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিল্পভিত্তিক প্রকল্প ও ইন্টার্নশিপ যুক্ত করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির কিছু শিক্ষার্থী জাপানে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেছেন এবং মো. মনসুরুল হক রাশেদ নামের একজন স্নাতক ইন্টার্নশিপ শেষে একটি জাপানি প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান অর্জন করেছেন।
আইন শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যবহারিক দক্ষতার প্রয়োগ দেখা গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফিলিপ সি. জেসাপ ইন্টারন্যাশনাল ল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে 'ইনোভেঞ্চার ২০২৬' এবং ব্যবসায়িক ক্লাবের মাধ্যমে ইন্টেলিজেন্ট এনার্জি ম্যানেজমেন্ট ও এআই-ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ের বিএসসি প্রোগ্রামটি ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড কাঠামোর আওতায় বোর্ড অব অ্যাক্রেডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন (বিএইটিই) থেকে ছয় বছরের স্বীকৃতি পেয়েছে, যার মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০৩২ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। উচ্চশিক্ষাকে সনদের সীমারেখা থেকে বের করে ব্যবহারিক প্রয়োগ ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করাই এখন সময়ের দাবি বলে মত দেওয়া হয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজারে যে পরিবর্তন আসছে, তার সঙ্গে ঐতিহ্যগত পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষার ব্যবধান স্পষ্ট হচ্ছে। এ ব্যবধান দূর করতে উচ্চশিক্ষায় ব্যবহারিক ও গবেষণাধর্মী পদ্ধতির বিস্তার জরুরি হয়ে উঠেছে।
সূত্র: The Business Standard










