যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস স্কুলগুলোতে ফুল-টাইম এমবিএ এবং অন্যান্য ব্যবসায় শিক্ষা কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন কাউন্সিলের (জিম্যাক) এক জরিপ অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ক্লাসের জন্য ফুল-টাইম এমবিএ আবেদন সামগ্রিকভাবে ২৭ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের গ্র্যাজুয়েট বিজনেস প্রোগ্রামে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদন কমেছে ৩৮ শতাংশ। তুলনায় দেশটির অভ্যন্তরীণ শিক্ষার্থীদের আবেদন কমেছে মাত্র ৬ শতাংশ।
শুধু প্রচলিত ফুল-টাইম এমবিএ নয়, অনলাইন কোর্সসহ গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রোগ্রামেও এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা ও অভিবাসন নীতির অনিশ্চয়তাই শিক্ষার্থীদের আবেদন কমার পেছনে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেও এর প্রভাব পড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের (ইউসিএলএ) অ্যান্ডারসন স্কুল অব ম্যানেজমেন্টে আবেদন কমেছে ২১ শতাংশ। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক আবেদন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ম্যাকডোনো স্কুল অব বিজনেসে ২২ শতাংশ এবং ডিউক ইউনিভার্সিটির ফুকুয়া স্কুল অব বিজনেসেও একই ধরনের পতন দেখা গেছে। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির কেলি স্কুল অব বিজনেসে আগের বছর ১০৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও সাম্প্রতিক ব্যাচে তা প্রায় অর্ধেক কমে ৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
বিজনেস স্কুলের কর্মকর্তাদের মতে, ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পরও অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসা পেতে জটিলতার মুখে পড়ছেন। এ ছাড়া স্কলারশিপের প্রতিযোগিতা এবং ইউরোপের মতো বিকল্প গন্তব্যের প্রতি আগ্রহও ভর্তির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। জিম্যাকের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে যখন আবেদন ব্যাপকভাবে কমেছে, তখন ইউরোপীয় বিজনেস স্কুলগুলোতে আবেদন কমার হার ছিল মাত্র ২ শতাংশ।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা খাতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান পছন্দ ব্যবসায় শিক্ষা। ভিসা বিধিনিষেধ ও অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক আবেদন কমে যাওয়ায় অনেক বিজনেস স্কুল আসন পূরণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিকায়ন ও আর্থিক কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলছে।
সূত্র: Hindustan Times










