হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত রেকর্ড হস্তান্তরের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের করা একটি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক। বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনও ভর্তি প্রক্রিয়ায় জাতিগত পরিচয় বিবেচনা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগ (DOJ) ও শিক্ষা বিভাগ আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত পর্যায়ের তথ্য চেয়ে এই মামলা করেছিল।

বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ মিয়ং জুন সোমবার এই রায় দেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, তার এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। হার্ভার্ড আদৌ কোনো বৈষম্য করেছে কি না কিংবা কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে হাজার হাজার হাইস্কুল শিক্ষার্থীর আবেদন সংক্রান্ত তথ্য চাইতে পারবে কি না—সে বিষয়ে আদালত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।

বিচারক হার্ভার্ডের যুক্তির সঙ্গে একমত হয়ে জানান, বিচার বিভাগ তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ধাপগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ না করেই আদালতে চলে এসেছে। বিশেষ করে, বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বেচ্ছায় তথ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং অনুরোধ না মানলে মামলা করা হবে—এমন সুনির্দিষ্ট আইনি নোটিশ বিচার বিভাগের অভিযোগে অনুপস্থিত ছিল। ফলে বিচার বিভাগ চাইলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ধাপগুলো সম্পন্ন করে আবারও একই ধরনের মামলা করার চেষ্টা করতে পারবে বলে বিচারক উল্লেখ করেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিচার বিভাগ আদালতে অভিযোগ করেছিল যে হার্ভার্ড সুপ্রিম কোর্টের ২০২৩ সালের নির্দেশনা মানছে কি না তা তদন্তে সহযোগিতা করছে না। ওই বছর দেশটির সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ বাড়াতে ব্যবহৃত রেস-কনশাস বা জাতি-ভিত্তিক কোটা নীতি অবৈধ ঘোষণা করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৬৪ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্টের ‘টাইটেল সিক্স’ লঙ্ঘন হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে আবেদনকারীদের বিগত কয়েক বছরের তথ্য চেয়েছিল।

অন্যদিকে হার্ভার্ডের আইনজীবীরা দাবি করেন, প্রশাসনের রাজনৈতিক এজেন্ডা মেনে প্রশাসনিক কাঠামো ও পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনতে রাজি না হওয়ায় প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই মামলা করা হয়েছিল।

গত সপ্তাহে হার্ভার্ডের প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর টানা তৃতীয় বছরের মতো বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কৃষ্ণাঙ্গ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০৩০ শিক্ষাবর্ষের ক্লাসে এই হার আগের বছরের ১১.৫ শতাংশ থেকে কমে ৯.৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

মামলাটি খারিজের বিষয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

সুপ্রিম কোর্টের ২০২৩ সালের রায়ের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়া কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছে। ফেডারেল সরকারের নথিপত্র তলবের বিরুদ্ধে এই আদালতের সিদ্ধান্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় নজরদারির পদ্ধতিগত আইনি বাধ্যবাধকতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্র: The Business Standard