তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডে একের পর এক স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান। রোমান্টিক নায়ক, প্রতিশোধপরায়ণ প্রেমিক, দেশপ্রেমিক সেনা কিংবা ঠাণ্ডা মাথার খলনায়ক—নানা ধাঁচের চরিত্রে কাজ করে তিনি বলিউডের ‘বাদশা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ১৯৯৩ সালে ‘বাজিগর’ ছবিতে অজয় শর্মা ও ভিকি মালহোত্রা নামের দ্বৈত পরিচয়ে হাজির হয়ে প্রচলিত নায়কোচিত ছক ভাঙেন তিনি। একই বছর ‘ডর’ ছবিতে একতরফা প্রেম ও আবেশে মগ্ন রাহুল মেহরার নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক মহলে আলোড়ন তোলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে আদিত্য চোপড়ার ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’ ছবির রাজ মালহোত্রা চরিত্রটি তাকে চূড়ান্ত রোমান্টিক নায়কের খ্যাতি এনে দেয়। মুম্বাইয়ের মারাঠা মন্দির প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি গত ৩০ বছর ধরে প্রদর্শিত হয়ে আসছে।
এরপর ১৯৯৮ সালে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর রাহুল এবং মনি রত্নমের ‘দিল সে...’-এর রেডিও সাংবাদিক অমরকান্ত ভার্মা চরিত্রে তিনি ভিন্ন আঙ্গিকে ধরা দেন। ২০০০ সালে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘মহব্বতেঁ’-এর রাজ আরিয়ান এবং ‘জোশ’ ছবিতে গোয়ার মাস্তান দলের নেতা ম্যাক্স ডায়াস চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০০২ সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘দেবদাস’ ছবিতে নামভূমিকায় তার কাজ প্রশংসিত হয়।
পরবর্তী বছরগুলোতেও শাহরুখের কাজের পরিধি বিস্তৃত ছিল। ২০০৪ সালে ‘স্বদেশ’ ছবিতে নাসার বিজ্ঞানী মোহন ভার্গব, ‘বীর-জারা’য় ভারতীয় বায়ুসেনার কর্মকর্তা বীর প্রতাপ সিং এবং ‘ম্যায় হুঁ না’ ছবিতে মেজর রাম প্রসাদ শর্মা চরিত্রে কাজ করেন তিনি। ২০০৬ সালে অমিতাভ বচ্চনের জনপ্রিয় চরিত্র ফিরিয়ে এনে তৈরি ফারহান আখতারের ‘ডন’ ছবিতে দ্বৈত পরিচয়ে হাজির হন। ২০০৭ সালে ‘চক দে! ইন্ডিয়া’ ছবিতে ভারতীয় নারী হকি দলের কোচ কবীর খানের চরিত্রে তার সংযত ও দৃঢ় অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
২০২৩ সালে শাহরুখ খানের তিনটি ছবি মুক্তি পায়। এর মধ্যে অ্যাটলি পরিচালিত ‘জওয়ান’ ছবিতে তিনি ক্যাপ্টেন বিক্রম রাঠৌর ও তার ছেলে আজাদের দ্বৈত ভূমিকায় অভিনয় করেন। ওই বছরের পর বড়পর্দায় তাকে আর দেখা যায়নি। চলতি বছরের ডিসেম্বরে বড়দিনের মৌসুমে তার পরবর্তী ছবি ‘কিং’ মুক্তির কথা রয়েছে, যে ছবিতে তার মেয়ে সুহানা খানও অভিনয় করছেন।
সূত্র: Channel i Online











