যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির মুখে পড়ছে। কর্মী নিয়োগ স্থগিত রাখা, পাঠ্যক্রম ছাঁটাই এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ পেছানোর মতো নানা পদক্ষেপ নিয়ে ব্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চশিক্ষায় সামগ্রিক সরকারি বরাদ্দ বেড়েছে।
ন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের (NEA) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে উচ্চশিক্ষায় রাজ্যগুলোর বরাদ্দ ৪ শতাংশ বেড়ে ১২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর এই বৃদ্ধির প্রকৃত হার দাঁড়ায় মাত্র ২ শতাংশে। ১৭টি রাজ্যে মূল্যস্ফীতি সমন্বিত বরাদ্দ উল্টো কমে গেছে এবং ১২টি রাজ্যে বরাদ্দ এখনো মহামারিপূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে পারেনি।
স্টেট হায়ার এডুকেশন এক্সিকিউটিভ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (SHEEO) হিসাবে, ২০২৫ অর্থবছরে রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি সমন্বিত বরাদ্দ ২.৬ শতাংশ বেড়ে মোট ১৩০.৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। কিন্তু একই সময়ে পাবলিক কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি বেড়েছে ৩.৬ শতাংশ। ফলে প্রতি পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীর (full-time-equivalent) বিপরীতে মাথাপিছু বরাদ্দ ১ শতাংশ কমে ১২,০৮২ ডলারে নেমে আসে, যা টানা ১২ বছর বৃদ্ধির পর প্রথম পতন।
একই সঙ্গে টিউশন ফি থেকে আসা প্রকৃত আয়ও কমেছে। SHEEO-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি শিক্ষার্থীর বিপরীতে মূল্যস্ফীতি সমন্বিত নিট টিউশন আয় ৩.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষার মোট রাজস্ব কমেছে ১.৯ শতাংশ। বিশেষ করে অ্যারিজোনা ও অ্যালাবামার মতো রাজ্যগুলোতে রাজ্য বরাদ্দ ৯ থেকে ১০ শতাংশের মতো কমলেও শিক্ষার্থী ভর্তি যথাক্রমে ৬ ও ৩ শতাংশ বেড়েছে।
পাবলিক চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষা আয়ের প্রায় ৪৮.৮ শতাংশ আসে টিউশন ও ফি থেকে, যেখানে দুই বছরের কমিউনিটি কলেজগুলোতে এর হার ১৯.৪ শতাংশ। তবে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাড়িয়ে এই ঘাটতি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। NACUBO-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রথম বর্ষের স্নাতক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে টিউশন ডিসকাউন্ট গড়ে ৫৭.১ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে শিক্ষার্থী বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিট আয় বাড়ছে না।
সামগ্রিক এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যয় কমাতে বিভাগ একীভূত করা, নতুন কর্মী নেওয়া বন্ধ রাখা কিংবা প্রয়োজনীয় মেরামত পেছানোর মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে এই সাময়িক কাটছাঁট দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মান ও প্রাতিষ্ঠানিক টেকসই অবস্থার ওপর চাপ ফেলছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
মোট সরকারি তহবিল বাড়লেও তা শিক্ষার্থী বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। ফলে বহু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই, কোর্স কমানো ও সুযোগ-সুবিধা সীমিত করার মতো পদক্ষেপে বাধ্য হচ্ছে, যা শিক্ষার পরিবেশ ও আর্থিক কাঠামোকে সংকটে ফেলছে।
সূত্র: Entrepreneur










