যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুল ক্যাফেটেরিয়ার বাড়তি খাবারের অপচয় কমাতে কম্পোস্টিং ও শেয়ারিং টেবিলের মতো নানা পদ্ধতির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ল্যান্ডফিলে বর্জ্যের পরিমাণ কমাতে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জর্জিয়ার লরেন্সভিলের লাভিন এলিমেন্টারি স্কুলে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। স্কুলটিতে ফেলে দেওয়া খাবারের অংশ সামলাতে কম্পোস্ট বিন, কেঁচো ও মুরগি ব্যবহার করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ফলমূল ও শাকসবজির উচ্ছিষ্টাংশ কম্পোস্টিংয়ের জন্য সংগ্রহ করে। পাশাপাশি না খোলা দুধ ও খাওয়ার উপযোগী প্যাকেটজাত খাবার একটি শেয়ার্ড রেফ্রিজারেটর বা টেবিলে রাখা হয়, যাতে অন্য শিক্ষার্থীরা তা নিতে পারে। ২০১৮ সালের এক নিরীক্ষায় স্কুলটির দুই ঘণ্টার মধ্যাহ্নভোজের সময়েই ৫৮৯ পাউন্ড খাবার অপচয় হওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তীতে সচেতনতা কার্যক্রম ও খাবার ভাগাভাগির ব্যবস্থা চালুর পর অপচয়ের পরিমাণ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে যায়। বর্তমানে স্কুলটি প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০০ পাউন্ড সবজির উচ্ছিষ্ট কম্পোস্ট করে এবং প্রতি লাঞ্চে শেয়ারিংয়ের জন্য প্রায় ১০০টি খাদ্যপণ্য জমা হয়। সেখানে অবণ্টিত থেকে যাওয়া খাবার স্থানীয় একটি কমিউনিটি ফুড প্যান্ট্রিতে দান করা হয়।
এদিকে ৭৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর বাল্টিমোর সিটি পাবলিক স্কুলসও শেয়ারিং টেবিল ও কম্পোস্টিং কার্যক্রম শুরু করেছে। খাদ্য উৎপাদন ও টেকসই পরিবেশ সম্পর্কে শেখাতে তাদের একটি ৩৩ একরের লার্নিং ফার্মও রয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের (ডাব্লিউডাব্লিউএফ) ‘ফুড ওয়েস্ট ওয়ারিয়র্স’ কর্মসূচি এক হাজারেরও বেশি স্কুলে কাজ করেছে, যেখানে কোনো কোনো স্কুলে অপচয় প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। পর্যাপ্ত বাজেটের অভাব, প্রয়োজনীয় কর্মীর সংকট, ফেডারেল মিল স্ট্যান্ডার্ড এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিমালার কারণে অনেক সময় কার্যক্রম পরিচালনা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবার সংরক্ষণ ও অপচয় কমানোর এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করাই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনার মূল চাবিকাঠি।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
ডাব্লিউডাব্লিউএফ-এর ২০১৯ সালের এক গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার টন খাবার নষ্ট হয়, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১৭০ কোটি ডলার। এ ধরনের কার্যক্রম বর্জ্য কমানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ও পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাসে ভূমিকা রাখে।
সূত্র: The Business Standard










