যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশুদের পরীক্ষার ফলাফলে লক্ষণীয় অবনতি দেখা গেছে। ২০২৪ সালের ‘নেশনস রিপোর্ট কার্ড’ (Nation's Report Card) অনুযায়ী, দেশটির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ার গড় স্কোর ২০২২ সালের চেয়ে ২ পয়েন্ট এবং ২০১৯ সালের চেয়ে ৫ পয়েন্ট কমেছে। করোনা মহামারির প্রভাব ও স্কুল বন্ধ থাকার পাশাপাশি স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারকে বিশেষজ্ঞরা এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন।

শিক্ষাবিদ ও লেখক ওয়েন্ডি দিয়াজের মতে, কেবল ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পড়ার সঠিক কৌশল বা ‘হাউ টু স্টাডি’ না শেখানোও এই সমস্যার অন্যতম কারণ। বর্তমানে অনেক স্কুলেই শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই বা নোটবুক বাড়ি নিয়ে আসে না এবং ক্লাসের কাজের জন্য কেবল শ্রেণিকক্ষের ডিভাইসের ওপর নির্ভর করে। এর ফলে বাড়িতে নিজের মতো করে বিষয়বস্তু পুনরাবৃত্তি করার সুযোগ কমে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রযুক্তিভিত্তিক পাঠদানের বাইরে কিছু ঐতিহ্যগত শিক্ষাদান পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে হাতে লেখার অভ্যাস, পড়ার সময় সরাসরি কাগজের ডিকশনারি বা অভিধান ব্যবহার, নিয়মিত সরবে পাঠ করা এবং নিজের ভাষায় নোট নেওয়ার চর্চা। তথ্যের সরাসরি পুনরাবৃত্তির পাশাপাশি ফ্ল্যাশ কার্ড ব্যবহার এবং ছবি বা ছড়ার মাধ্যমে জটিল বিষয় সহজভাবে মনে রাখার কৌশল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করতে পারে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

প্রাথমিক ও মিডল স্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং নিজস্ব পড়ার কৌশলের অভাবে তাদের স্বাধীনভাবে শেখার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

আপনার কী করা উচিত?

  1. 1শিশুদের শব্দার্থ খোঁজার জন্য সরাসরি কাগজের অভিধান ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি করা।
  2. 2পড়ার বিষয় সহজে মনে রাখতে ফ্ল্যাশ কার্ড, সংক্ষিপ্ত নোট বা চার্ট তৈরির কৌশল শেখানো।
  3. 3স্কুলের অ্যাসাইনমেন্ট ও কাজের নির্দেশনা নিজ দায়িত্বে লিখে রাখার জন্য নোটবুক বা প্ল্যানার ব্যবহারের চর্চা করানো।

সূত্র: Sound Vision