নদীভাঙনে ভিটেমাটি, ভূপ্রকৃতি এমনকি স্বজনদের কবর বিলীন হয়ে গেলেও মানুষের স্মৃতি থেকে যায়। নদীভাঙন ও জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতির এই গভীর মানবিক সংকট নিয়ে ঢাকায় চলছে আলোকচিত্রী ও ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট আহমেদ রাসেলের একক প্রদর্শনী ‘আ বেড, আ হোম অ্যান্ড গ্রেভস’।

রাজধানীর লালমাটিয়ার কলাকেন্দ্রে চলমান এই প্রদর্শনীতে আলোকচিত্র, ভিডিও চিত্র, আর্কাইভে সংরক্ষিত নথিপত্র এবং ইনস্টলেশনের মাধ্যমে নদীভাঙনের ক্ষতিকে পরিসংখ্যানে না রেখে মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে। শিল্পী ওয়াকিলুর রহমানের কিউরেশনে প্রদর্শনীটি গত ৯ অক্টোবর শুরু হয়। এটি বাড়িয়ে আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি দর্শকদের জন্য খোলা রয়েছে।

প্রদর্শনীর কেন্দ্রে রয়েছে রাসেলের দীর্ঘমেয়াদি আলোকচিত্র প্রকল্প ‘মেমোরিজ অব লস্ট ল্যান্ডস’। এতে ব্যক্তিগত স্মৃতি, পারিবারিক ইতিহাস এবং মানুষ ও নদীর প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া সম্পর্ককে ধারণ করা হয়েছে। এর একটি অধ্যায় ‘দ্য ফিশ ওয়াজ কেপ্ট অ্যালাইভ টু টেল দ্য স্টোরিজ’, যা রাসেলের শৈশব ও তার নানির স্মৃতিকে ঘিরে নির্মিত। রাসেলের নানি নদীভাঙনে নিজের বাড়ি হারিয়েছিলেন। সেই বাড়ি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর আগে রাসেলের মামা বিয়ের দুটি আলোকচিত্রের রোল সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন, যা পরবর্তীতে হারিয়ে যাওয়া এক ভিটের অবশিষ্ট স্মারক হয়ে ওঠে।

প্রদর্শনীর ছবিতে নদীপাড়ের মানুষ, নৌকা, ভাঙনকবলিত তীর ও বৃক্ষরাজির দৃশ্য উঠে এসেছে। এ ছাড়া উপকূলীয় জনপদের রাতের পরিবেশ নিয়ে প্রদর্শনীর আরেকটি অধ্যায় সাজানো হয়েছে, যেখানে রাতের অন্ধকার ভৌগোলিক ও মনস্তাত্ত্বিক রূপ নিয়ে ধরা দেয়।

হারিয়ে যাওয়া পরিবেশ ও ভূমির প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন রাসেল। এর আগে ২০২৩ সালে ঢাকা আর্ট সামিটে তার কাজ প্রদর্শিত হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে জার্মানির কুনস্টভেরাইন নয়হাউজেনে ‘ডেজার্টিফিকেশন’ প্রদর্শনীর অংশ হিসেবেও তার ‘মেমোরিজ অব লস্ট ল্যান্ডস’ এবং ‘দ্য ফিশ ওয়াজ কেপ্ট অ্যালাইভ টু টেল দ্য স্টোরিজ’ প্রদর্শিত হয়।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

প্রদর্শনীটি জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীভাঙনকে কেবল পরিসংখ্যান হিসেবে না দেখে, এর কারণে বাস্তুচ্যুত সাধারণ পরিবারের মানবিক ক্ষতি ও স্মৃতি হারানোর সংকটকে শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছে।

সূত্র: The Daily Star