বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চনের দীর্ঘ কর্মজীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অমিতাভ বচ্চন করপোরেশন লিমিটেডের (এবিসিএল) বিপর্যয়। ১৯৯৬ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণ, পরিবেশনা, টেলিভিশন ও অনুষ্ঠান আয়োজনের মতো নানা খাত নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সংকটের মুখে পড়ে। ১৯৯৯ সালে এবিসিএলের ক্ষতি দাঁড়ায় ৭০.৮২ কোটি রুপিতে এবং ঋণ পৌঁছায় প্রায় ৭০ কোটি রুপিতে। পরবর্তী সময়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমিতাভ বচ্চন জানান, ব্যক্তিগত গ্যারান্টির কারণে তাঁর নিজের ওপর প্রায় ৯০ কোটি রুপি পরিশোধের দায় তৈরি হয়েছিল।

সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে অমিতাভ বচ্চন জানিয়েছিলেন, তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব প্রায় শূন্যে নেমেছিল, প্রায় ৫৫টি আইনি মামলা হয়েছিল এবং কর কর্তৃপক্ষ তাঁর বাড়ির বিরুদ্ধে আদায়ের নোটিশ দিয়েছিল। পাওনাদারদের নিয়মিত বাড়ি আসাকে তিনি অপমানজনক পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ১৯৯৬ সালের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা আয়োজনসহ একাধিক খাতে দ্রুত সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কোম্পানিকে বড় আর্থিক ঝুঁকিতে ফেলেছিল।

এই গভীর আর্থিক সংকটের মধ্যেই ২০০০ সালে অমিতাভ বচ্চনের কাছে টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (কেবিসি) সঞ্চালনার প্রস্তাব আসে। সে সময় বড় পর্দার একজন প্রতিষ্ঠিত তারকার জন্য টেলিভিশনে আসা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না এবং শুরুতে তিনি অনাগ্রহীও ছিলেন। কয়েক মাসের মহড়া শেষে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায় এবং প্রথম মৌসুমে এর রেটিং পৌঁছায় প্রায় ১৪ টিভিআরে। একই সময়ে মুক্তি পাওয়া ‘মোহাব্বতে’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় বড় পর্দায় তাঁর অবস্থান নতুন করে শক্ত করে।

টেলিভিশনের সাফল্য, নতুন বিজ্ঞাপন চুক্তি এবং নিয়মিত অভিনয়ের মাধ্যমে আসা আয় অমিতাভ বচ্চনকে পাওনাদারদের দায় পরিশোধ করতে সাহায্য করে। এই অভিজ্ঞতা দেখায় যে পরিচিতি বা তারকাখ্যাতি ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিত করে না এবং অতিরিক্ত সম্প্রসারণ ও অপর্যাপ্ত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বড় সংকট তৈরি করতে পারে। ২০২৬ সালের এমথ্রিএম হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টে অমিতাভ বচ্চন ও তাঁর পরিবারের সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৪,০০০ কোটি রুপি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁর আর্থিক বিপর্যয়ের পর দীর্ঘ পথ অতিক্রমের চিত্র তুলে ধরে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

অমিতাভ বচ্চনের এই অভিজ্ঞতা দেখায় যে বড় ব্র্যান্ড বা খ্যাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবসায়িক সাফল্য আনে না। ব্যক্তিগত গ্যারান্টি, দুর্বল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত সম্প্রসারণ কীভাবে ব্যক্তিগত জীবনে বড় দায় তৈরি করতে পারে এবং নতুন মাধ্যম ও কাজের সুযোগ গ্রহণ করে কীভাবে সেই বিপর্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব, এটি তারই একটি উল্লেখযোগ্য নজির।

সূত্র: California Chithi