নিতেশ তিওয়ারির বিগ-বাজেট পৌরাণিক সিনেমা ‘রামায়ণ’-এর সঙ্গীত পরিচালনা করছেন অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান। সম্প্রতি ছবিটির ‘রাবণ তাণ্ডব’ ও ‘মঙ্গল রং’-এর মতো গানগুলো প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তবে এই অনলাইন আলোচনা ও সমালোচনায় একেবারেই বিচলিত নন বলে জানিয়েছেন এই কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী।
গান নিয়ে শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে রহমান জানান, একটি সৃষ্টি দর্শকের সামনে আনার আগে দীর্ঘ সৃজনশীল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তিনি বলেন, কাজের সময় এত বেশি পরিমার্জন, ভাবনা ও পরিবর্তন করতে হয় যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়ার দিকে তাকানোর মতো কোনো শক্তি অবশিষ্ট থাকে না। অনেক যাচাই-বাছাই করেই কাজটি প্রকাশ করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর ছেলে প্রায়ই তাঁকে জানায় কীভাবে শুরুতে সমালোচনা করেও পরক্ষণেই অনেকে মন্তব্য বদলে ফেলেন। তবে রহমান তাঁর কাজ আন্তরিকভাবে সম্পন্ন করায় বিশ্বাসী এবং আশা করেন দর্শক তা উদযাপন করবেন।
তিন দশকের সঙ্গীতযাত্রার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রহমান বলেন, দর্শকেরা প্রায়ই তাঁর পুরনো কাজগুলোকে ঘিরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং অতীতের মতোই সুর ফিরে পাওয়ার আশা করেন। কিন্তু সৃষ্টিশীলতায় এক জায়গায় স্থির থাকায় তিনি বিশ্বাসী নন। রণবীর কাপুর ও সাই পল্লবী অভিনীত এই চলচ্চিত্রে পাঁচটি ভিন্ন ভাষায় গান তৈরি হয়েছে।
এই প্রজেক্টে এ আর রহমান তাঁর একক কাজের ধারার বাইরে এসে জার্মান সুরকার হ্যান্স জিমারের সঙ্গে যৌথভাবে সঙ্গীত পরিচালনা করছেন। জিমারের সঙ্গে এই কাজকে তিনি একটি চমৎকার আশীর্বাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা বৈশ্বিক স্তরেও আগ্রহ তৈরি করবে বলে তিনি মনে করেন। আসন্ন নভেম্বরে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রতীক্ষিত ও ব্যয়বহুল পৌরাণিক প্রজেক্ট ‘রামায়ণ’-এ এ আর রহমান এবং হলিউডের খ্যাতিমান সুরকার হ্যান্স জিমারের যৌথ সঙ্গীত পরিচালনা আন্তর্জাতিক স্তরে বড় ধরনের আগ্রহ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তীব্র নজরদারির মুখে রহমানের এই প্রতিক্রিয়া তাঁর নিজস্ব শৈল্পিক দর্শন তুলে ধরে।
সূত্র: Filmfare











