বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে নতুন গান তৈরি ও প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যাপক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বছরের যে সময়ে ভালোবাসা দিবস ও ঈদের গানের কাজ নিয়ে স্টুডিওগুলোতে ব্যস্ততা থাকার কথা, সেখানে এখন অনেকটাই সুনসান নীরবতা। ফলে শিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালকদের অনেকেই অলস বা বেকার সময় কাটাচ্ছেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে নতুন গানের চেয়ে নাটক নির্মাণে বেশি মনোযোগী হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই শুধু নাটকের জন্য গান তৈরি করছে অথবা ঈদের মতো বড় উৎসব ছাড়া আলাদা গান প্রকাশ করছে না। একসময় পূজা উপলক্ষে অ্যালবাম প্রকাশের ব্যস্ততা দেখা গেলেও এবার তেমন কোনো আয়োজন ছিল না। কোরবানির ঈদের পর থেকেই নতুন গান প্রকাশের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। এর মধ্যে ধ্রুব মিউজিক স্টেশন কাজী শুভর একটি একক অ্যালবাম ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশসহ কিছু শিল্পীর একক অ্যালবাম প্রকাশের ঘোষণা দিলেও সার্বিক ক্ষেত্রে কাজের গতি ফিরছে না।
এর পাশাপাশি দেশজুড়ে একের পর এক স্টেজ শো বাতিল হওয়ায় শিল্পী ও যন্ত্রশিল্পীরা আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। শীতের মৌসুম সাধারণত স্টেজ পরিবেশনার মূল সময় হলেও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এবার কনসার্ট বা স্টেজ শোর সংখ্যা অনেক কম হতে পারে।
মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইবি) সভাপতি ও লেজারভিশনের কর্ণধার এ কে এম আরিফুর রহমান জানান, গান থেকে আয় একেবারেই কমে এসেছে। বারবার বিনিয়োগ করেও আশানুরূপ আয় না হওয়ায় ক্ষতির বোঝা সামাল দিতে তারা নাটকের দিকে ঝুঁকছেন। তবে গানের প্রতি ভালোবাসা থেকেই নিয়মিত গান প্রকাশের চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা বলেন তিনি।
সংগীতাঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কণ্ঠশিল্পী সালমা জানান, নিয়মিত কাজ করার চেষ্টা করলেও স্টেজ শো ও গানের সংখ্যা আগের চেয়ে তুলনামূলক কম। এই স্থবিরতা যত দ্রুত কাটবে, সংশ্লিষ্ট শিল্পী ও প্রযোজকদের জন্য ততই মঙ্গলজনক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
বিনিয়োগের বিপরীতে আয়ের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি আর্থিক সংকটে পড়েছে, যার ফলে প্রযোজকরা নাটক তৈরির দিকে ঝুঁকছেন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পী ও কলাকুশলীদের কর্মসংস্থান সীমিত হয়ে পড়ছে।
সূত্র: Daily Manab Zamin











