ভারতের কেরালা রাজ্যের কোচি শহরে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির শতবর্ষ পুরোনো মেলবন্ধন আজও স্পষ্ট। ফোর্ট কোচি, জিউ টাউন ও এরনাকুলাম—এই তিন অঞ্চলের স্থাপত্য ও জীবনযাত্রার মধ্যে দিয়ে প্রতিফলিত হচ্ছে শহরটির ঔপনিবেশিক এবং বাণিজ্যিক ইতিহাস।
ফোর্ট কোচির রাস্তাগুলোতে রয়েছে পর্তুগিজ, ডাচ ও ব্রিটিশ শাসনের ছাপ। ১৫০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনায় সমাহিত করা হয়েছিল নাবিক ভাস্কো দা গামাকে, যার দেহাবশেষ পরবর্তীতে পর্তুগালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানকার উপকূলে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী চীনা মাছ ধরার জাল, যা স্থানীয় মালয়ালম ভাষায় 'চিনাভালা' নামে পরিচিত।
নিকটবর্তী মাট্টানচেরি এলাকায় বাণিজ্য সূত্রে একসময় বসতি গড়েছিল ইহুদি, কোঙ্কনি, গুজরাটি ও জৈনসহ নানা সম্প্রদায়। সেখানকার জিউ টাউনে ১৫৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পরদেশী সিনাগগ, যা শনিবার শাবাথ উপলক্ষে পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকে। বিংশ শতাব্দীতে কোচিনের বহু ইহুদি ইসরায়েলে চলে যাওয়ায় এই সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা এখন অনেক কমে এসেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের পারস্পরিক সম্প্রীতির মাধ্যমে এসব ইতিহাস সংরক্ষিত হচ্ছে; যেমন মুসলিম ব্যবসায়ী তাহা ইব্রাহিম প্রয়াত সারাহ কোহেনের ঐতিহ্যবাহী সূচিকর্ম ধরে রেখেছেন।
কোচির বাইরে কোদুঙ্গাল্লুরে রয়েছে চেরামান জুমা মসজিদ, যা স্থানীয় ঐতিহ্য অনুসারে ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ভারতের প্রথম মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত। কেরালার ঐতিহ্যবাহী ঢালু ছাদ ও কাঠের নকশায় নির্মিত এই মসজিদ চত্বরে রয়েছে একটি ইসলামিক হিস্ট্রি মিউজিয়াম। এছাড়া বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র এরনাকুলামে আধুনিক নগরায়ণের পাশাপাশি ২০১৮ সালে সংস্কার করা কাদভুমভাগম সিনাগগও শহরের ইহুদি ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে।
সূত্র: The Business Standard











