যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ফেডারেল আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। প্রশাসনিক জটিলতা, সাক্ষাৎকারে বিলম্ব ও অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের কারণে হাজার হাজার আবেদনকারীর অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর (এনপিআর) এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করেছিল। এর ফলে বহু আবেদনকারীর প্রক্রিয়া মাঝপথে আটকে যায়। অনেকের আবেদন আগেই অনুমোদিত হলেও পাসপোর্টে ভিসা স্ট্যাম্প হওয়ার অপেক্ষায় আটকে ছিল।

পরবর্তীতে গত আগস্টে এক ফেডারেল বিচারক ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। তবে অভিবাসন আইনজীবীদের বরাতে জানা গেছে, আদালতের রায়ের পরও কনস্যুলার পর্যায়ে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে প্রত্যাশিত গতি ফেরেনি। আইনি বাধা কাটলেও প্রশাসনিক নানা প্রক্রিয়ার কারণে আবেদনকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে রয়েছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দূতাবাস ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন। এ ধরনের অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের কারণে আগে অনুমোদন পাওয়া অনেক আবেদনকারীকেও নতুন করে স্ক্রিনিংয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে।

এই বিলম্বের কারণে পরিবার পুনর্মিলন ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসীরাও বিপাকে পড়েছেন। যেমন, এক সাবেক মার্কিন সেনাসদস্যের স্ত্রী ও সন্তান আর্জেন্টিনায় প্রায় এক বছর ধরে ভিসার অপেক্ষায় আটকে আছেন। অন্যদিকে কলম্বিয়ার এক চিকিৎসা গবেষকের ইবি-১এ (EB-1A) ভিসা অনুমোদন পাওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে।

আদালতের সিদ্ধান্তের পর মাঠপর্যায়ে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রভাব কবে কার্যকর হবে এবং অপেক্ষমাণ ব্যক্তিরা ঠিক কবে ভিসা পাবেন, সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

আদালত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিলেও সরকারি সহায়তার সম্ভাব্য নির্ভরতা যাচাইসহ নানা বাড়তি প্রশাসনিক নিয়মের কারণে আবেদনকারীদের পরিবার পুনর্মিলন, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সূত্র: Bangla New York