যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) ৪১ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথ্য হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফাঁস করা হয়েছে। বুধবার অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এসব তথ্যের মধ্যে অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তায় নিয়োজিত হাজারো কর্মীর নাম, কর্মস্থলের ঠিকানা, ফোন নম্বর ও দায়িত্বের বিবরণ রয়েছে।
ফাঁস হওয়া নথির বড় অংশই অভিবাসন সংক্রান্ত সংস্থার। এর মধ্যে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের (সিবিপি) ২১ হাজারের বেশি এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন কর্মকর্তার তথ্য রয়েছে। এছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিস এবং সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির (সিআইএসএ) কর্মীদের তথ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামের একটি গোষ্ঠী ডিএইচএসের তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করে এসব নথি সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে সাংবাদিক ও সাইবার নিরাপত্তা গবেষক মাইয়া ক্রাইমিউ এবং তথ্য ফাঁসের প্ল্যাটফর্ম ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস’ (ডিডোসিক্রেটস) ‘আইসপিক’ নামের একটি ডেটাবেজে তা প্রকাশ করে।
ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি আগে অপ্রকাশিত থাকা বেশ কয়েকটি গোপন অভিযানের নাম, অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের পরিচয় এবং সেলব্রাইট ও পালান্টিরের সরবরাহ করা প্রযুক্তির বিবরণও এই ফাঁসে প্রকাশ পেয়েছে। ডিডোসিক্রেটসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্ট জানিয়েছেন, সব কর্মকর্তার তালিকা প্রকাশ নয়, বরং গোপন অভিযানের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনাই এর মূল লক্ষ্য ছিল।
হ্যাকার গোষ্ঠীটির দাবি, ওকটা (Okta) নামের একটি সিঙ্গেল সাইন-অন সেবার মাধ্যমে তারা এসব প্রোফাইলে প্রবেশ করেছিল। তবে ওকটার মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা সুরক্ষিত এবং সিস্টেমে অনুপ্রবেশের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
ডিএইচএসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের বিষয়টি অবগত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলা ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ চলছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলোতে এটি তৃতীয় বড় ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনা। এর আগে এফবিআই কর্মকর্তাদের তথ্য চুরি এবং ফেডারেল ইলেকশন কমিশনে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
আইসিই ও সিবিপিসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর হাজার হাজার কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বিবরণ এবং গোপন অভিযানের প্রযুক্তি ফাঁস হওয়ায় সরকারি সাইবার নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: Channel i Online












