যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এবং এর আওতাধীন সাতটি সংস্থার ৪১ হাজারেরও বেশি কর্মীর অভ্যন্তরীণ তথ্য সম্বলিত একটি বিশদ ডেটাবেস ফাঁস হয়েছে। স্বচ্ছতা বিষয়ক অলাভজনক সংস্থা ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস’ (DDoSecrets) এবং সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ও সাংবাদিক মায়া আর্সন ক্রাইম ‘আইসপিক’ (Icepick) নামের এই আর্কাইভটি অনলাইনে প্রকাশ করেছেন। প্রকাশিত তথ্যগুলো ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ করা ছিল।
উৎসদের দাবি, ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামের একটি হ্যাকার দল এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছে এবং এগুলো ডিএইচএসের ওকটা (Okta) লগইন সিস্টেম থেকে এসেছে। তবে ওকটার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের কোনো সিস্টেমে অনুপ্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তাদের সিস্টেম নিরাপদ রয়েছে। অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডিএইচএস সম্ভাব্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়ে অবগত রয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবেলায় কাজ করছে।
ফাঁস হওয়া নথির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এতে পুরো ডিএইচএসের প্রায় সাত ভাগের এক ভাগ কর্মীর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি রেকর্ড ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের (সিবিপি)। প্রায় ১০ হাজার রেকর্ড ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস), যার এক-তৃতীয়াংশ তাদের তদন্ত শাখা ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস’ (এইচএসআই)-এর সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মী এবং সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির (সিআইএসএ) প্রায় ১ হাজার কর্মীর তথ্য রয়েছে এতে।
ফাঁস হওয়া এসব ডেটায় কর্মীদের নাম, পদবি, সুপারভাইজার এবং অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে প্রবেশের অনুমতির তালিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এইচএসআই-এর ক্ষেত্রে এক ডজনেরও বেশি ফিল্ড অফিসের ৩৯ জন কর্মী এমন গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যা আদালতে স্বীকৃত গোপন বা আন্ডারকভার অপারেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া নজরদারি সফটওয়্যার, ওয়্যারট্যাপ প্রোগ্রাম, ফোন রেকর্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণকারী প্রযুক্তি এবং মোবাইল ফেস-রেকগনিশন অ্যাপের মতো বিশেষায়িত টুলের অভ্যন্তরীণ অনুমতির তথ্যও এতে প্রকাশ পেয়েছে।
আর্কাইভে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ জন কন্ট্রাক্টর বা সহযোগীর পাশাপাশি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের (২৮৭(জি) অফিসার) তথ্য রয়েছে, যারা অভিবাসন কার্যক্রমে সহায়তা করেন। শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে সাবেক ডিএইচএস প্রধান ক্রিস্টি নোমসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নামও বিশেষ অভ্যন্তরীণ ক্যাটাগরিতে দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডিএইচএসের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাঠামো এবং সম্পর্কের জটিল নেটওয়ার্ক এই ফাঁসের মাধ্যমে জনসমক্ষে চলে এসেছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
এই ফাঁসের ফলে ডিএইচএস এবং আইসের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বিন্যাস ও নজরদারি সক্ষমতা জনসমক্ষে এসেছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বিরোধী শক্তির কাছে একটি বড় গোয়েন্দা তথ্যভান্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, যার মাধ্যমে সংবেদনশীল দায়িত্বে থাকা কর্মী ও চলমান অভিযানগুলো ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে। একইসঙ্গে জনস্বার্থে নজরদারি ব্যবস্থার জবাবদিহিতা এবং সরকারি কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার দ্বন্দ্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: Wired












