সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় বন্যা থেকে সুরক্ষায় ম্যানহাটনের উপকূলে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বিস্তৃত প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলছে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। ২০১২ সালে হারিকেন স্যান্ডির ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির পর শহরকে ভবিষ্যৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিরাপদ রাখতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক সরেজমিন প্রতিবেদনের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রকল্পের মূল কাজ চলছে ম্যানহাটনের ইস্ট রিভার পার্কজুড়ে। নদী থেকে মাটি এনে পার্কটিকে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ ফুট (৩ মিটার) উঁচুতে তুলে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর পাড় ঘেঁষে মাটির প্রায় ১০০ ফুট (৩০ মিটার) গভীরে কংক্রিট ও ইস্পাতের পাইল বসিয়ে পাথুরে স্তরে যুক্ত করা হয়েছে এবং এর ওপর ফ্লাডওয়াল তৈরি করা হয়েছে।
উপকূলীয় জলবায়ু সুরক্ষার এ ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে। কোনো বড় ঝড়ের পূর্বাভাস থাকলে উপকূলের ১৮টি স্লাইডিং ফ্লাডগেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া দক্ষিণের অংশে মাটির নিচে থাকা প্রায় ১০০টি মেকানিক্যাল 'ফ্লিপ-আপ' ব্যারিয়ার ওপরের দিকে উঠে এসে পানির তোড় প্রতিরোধ করবে। সমুদ্রের পানি ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়লেও এই প্রতিরক্ষা দেয়াল তা ঠেকাতে পারবে। বর্তমানে প্রকল্পের ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এর পুরো কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির ব্যুরো অব কোস্টাল রেজিলিয়েন্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ক্যাথরিন প্রিবিলস্কি জানান, এই প্রাচীর না থাকলে ক্রমবর্ধমান জোয়ারের কারণে নগরবাসীকে মাসে ১০ থেকে ১৫ দিন রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হতো, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করত।
সুরক্ষাব্যবস্থা মজবুত করার পাশাপাশি পুনর্নির্মিত ইস্ট রিভার পার্কে রানিং ট্র্যাক, শিশুদের খেলার মাঠ, ফুটবল মাঠ এবং বিনোদনমূলক পরিসরও তৈরি করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে এই প্রকল্পের প্রশংসা করার পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নের বৈশ্বিক বৈষম্যের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সংস্থাটির প্রতিনিধি নাভিদ হানিফ উল্লেখ করেছেন, নিউ ইয়র্কের মতো ধনী শহরের এ ধরনের অর্থায়নের সক্ষমতা থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও ভারতের নিচু উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি মানুষ অর্থায়ন ও সুরক্ষার অভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুসারে ১৯৯৩ সালের পর থেকে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার দ্বিগুণ হয়েছে। ৫২০ মাইল উপকূলরেখা থাকা নিউ ইয়র্ক সিটিকে প্রতিদিনের জোয়ার এবং চরম দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করতে এই উপকূলীয় অবকাঠামো নগর জীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সূত্র: New York Bangla










