যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের পারিবারিক আয় আগের বছরের চেয়ে কিছুটা বাড়লেও চড়া মর্টগেজ সুদের কারণে বাড়ি কেনার সামর্থ্য আরও কমেছে। ইউএস সেন্সাস ব্যুরোর নতুন আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে তথ্যের বরাতে রিয়েলটর ডটকম জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দেশটির জাতীয় মধ্যম বার্ষিক পারিবারিক আয় দাঁড়িয়েছে ৮৪,৭৮০ ডলারে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৩.৮ শতাংশ বেশি।

তবে এই আয় বৃদ্ধি আবাসন খরচের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি মধ্যম দামের বাড়ির তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল ৪,১৯,২৫০ ডলার। রিয়েলটর ডটকমের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই মূল্যের বাড়ি কিনতে যে পরিমাণ আয় প্রয়োজন, দেশটির একটি সাধারণ পরিবারের বর্তমান আয় তার চেয়ে প্রায় ২৭ শতাংশ বা ৩১,১৩৬ ডলার কম। আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই ঘাটতি ছিল প্রায় ২৪ শতাংশ।

বিশ্লেষণটিতে ৭.৩২ শতাংশ মর্টগেজ সুদের হার, ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট এবং সম্পত্তি কর ও বিমার জন্য বার্ষিক ১.৭ শতাংশ খরচ ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রেতারা যেন তাঁদের মোট মাসিক আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি আবাসনে ব্যয় না করেন—এই সাধারণ আর্থিক নিয়মটিও এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যেই মধ্যম আয়ের ক্রেতারা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ছাড়া মধ্যম দামের বাড়ি কিনতে পারছেন না।

যদিও সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৪০টিতেই বাড়ির দাম কিছুটা কমেছে, তবুও এক বছরের ব্যবধানে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড হোম লোনের গড় সুদ এক শতাংশের বেশি বাড়ায় ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। অঙ্গরাজ্যভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রয়োজনীয় আয়ের সঙ্গে প্রকৃত উপার্জনের এই ব্যবধান সর্বনিম্ন ২.৯ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫৬.১ শতাংশ পর্যন্ত।

বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাশ্রয়ী অবস্থানে রয়েছে মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল বা মিডওয়েস্টের অঙ্গরাজ্যগুলো। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী রাজ্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে আইওয়া। রাজ্যটিতে একটি সাধারণ পরিবারের আয় ৭৮,৪৮৩ ডলার, যা সেখানে মধ্যম মূল্যের ২,৮৪,৯০০ ডলারের বাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় আয়ের চেয়ে মাত্র ২,২৮৭ ডলার বা ২.৯ শতাংশ কম। এছাড়া ইলিনয়, পেনসিলভানিয়া, ওহাইও এবং ক্যানসাসে এই আয়ের ঘাটতি ৩.৫ থেকে ৪.৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

বিপরীত চিত্র দেখা গেছে উপকূলীয় ও পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে রয়েছে মন্টানা, যেখানে বাড়ির দাম মেটাতে প্রয়োজনীয় আয়ের তুলনায় পরিবারের প্রকৃত আয় প্রায় ৫৬ শতাংশ বা ৯৯,০০০ ডলার কম। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ায় আয়ের ঘাটতি ৪৯ শতাংশ, আইডাহোতে ৪৮.৬ শতাংশ, হাওয়াইতে ৪৮.২ শতাংশ এবং নিউইয়র্কে এই ব্যবধান ৪৬.৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

আবাসনের দাম অনেক জায়গায় কিছুটা কমলেও চড়া মর্টগেজ সুদের কারণে ক্রেতাদের মাসিক কিস্তির বোঝা বেড়েছে। ফলে আয় বাড়ার পরও পুরো দেশজুড়ে সাধারণ আয়ের পরিবারগুলোর পক্ষে প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রেক্ষাপট

নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি-আমেরিকান বসবাস করেন। এসব রাজ্যে বাড়ি কেনার প্রয়োজনীয় আয়ের সঙ্গে পরিবারের প্রকৃত আয়ের ব্যবধান ৪৬ থেকে ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোয় স্থানীয় প্রবাসী ক্রেতা ও নতুন পরিবারগুলোর জন্য বাড়ি কেনা তুলনামূলক বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার কী করা উচিত?

  1. 1বাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকলে বর্তমান ৭ শতাংশের বেশি সুদের হার এবং কর ও বিমাসহ মাসিক কিস্তি মোট আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে থাকে কি না তা যাচাই করা
  2. 2সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে মিডওয়েস্ট বা তুলনামূলক কম খরচের এলাকাগুলোর আবাসন বাজার ও স্থানীয় ফার্স্ট-টাইম হোমবায়ার সহায়তা কর্মসূচিগুলো খোঁজ নেওয়া

সূত্র: Realtor.com