যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর কঠোর অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ নীতির অন্যতম প্রধান রূপকার স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর শুক্রবার ট্রাম্প এই পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেন।
৪১ বছর বয়সী স্টিফেন মিলার ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকায় বেড়ে ওঠা মিলার ২০১০-এর দশকে কংগ্রেসের সহকারী হিসেবে কাজ করার সময় থেকেই অভিবাসন সীমিত করার কট্টর সমর্থক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে যোগ দেন এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে (২০১৭-২০২১) উপদেষ্টা ও ভাষণ লেখক হিসেবে কাজ করেন। ট্রাম্পের ২০২০ সালের নির্বাচনের পরাজয়ের পর তিনি রক্ষণশীল আইনি সংস্থা 'আমেরিকা ফার্স্ট লিগ্যাল' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিবাসন কড়াকড়ির পেছনে মিলারকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি প্রতিদিন ৩,০০০ অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন, যা পূর্ববর্তী যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় অনেক বেশি। শুধু অপরাধের রেকর্ড থাকা ব্যক্তিরাই নন, নথিপত্রহীন যেকোনো অভিবাসীকে লক্ষ্যবস্তু করতে মিলার ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টকে (আইসিই) নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর ফলে ডে লেবার বা দৈনিক মজুররা যেসব স্থানে কাজের জন্য জড়ো হন, বিশেষ করে হোম ডিপো স্টোরের আশপাশে, সেখানে আইসিই-র অভিযান উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বা 'বার্থরাইট সিটিজেনশিপ' বাতিলেরও সোচ্চার সমর্থক ছিলেন মিলার। সুপ্রিম কোর্ট যখন তাঁর এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে রায় দেয়, তখন তিনি সেই সিদ্ধান্তকে আদালতের ইতিহাসের অন্যতম 'বিধ্বংসী' সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ বন্ধ করতে তিনি 'বার্থ ট্যুরিজম' নিষিদ্ধের ঘোষণা দেন।
অভিবাসন ছাড়াও বৈচিত্র্যমূলক উদ্যোগ (ডিইআই) এবং রূপান্তরকামীদের অধিকার সীমিত করার ক্ষেত্রেও মিলার ছিলেন অন্যতম কণ্ঠস্বর। তিনি হোয়াইট হাউসের সেই ক্ষুদ্র কর্মকর্তা দলের সদস্য, যাঁরা সব ধরনের নির্বাহী আদেশ অনুমোদন করেন। এ ছাড়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প যেসব নির্বাহী পদক্ষেপ নিতে পারেন, তা নিয়ে তিনি কাজ করছিলেন।
পররাষ্ট্র ও অন্যান্য নীতির ক্ষেত্রেও মিলার আগ্রাসী অবস্থান বজায় রেখেছেন। গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ না করা, ভেনিজুয়েলায় অভিযান, কিংবা সন্দেহভাজন মাদক চোরাচালানকারীদের ওপর সামরিক হামলার প্রকাশ্য সমর্থন মিলার বহুবার দিয়েছেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারের নিয়োগ ইঙ্গিত দেয় যে ট্রাম্প প্রশাসন তাঁদের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নির্বাহী আদেশের ওপর নির্ভরতা আরও জোরদার করবে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বিরোধীদের হাতে চলে যাওয়ার পরও মিলারের নেতৃত্বে প্রশাসন আইনপ্রণেতাদের এড়িয়ে সরাসরি প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার মাধ্যমে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও অভ্যন্তরীণ নীতিমালা বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে পারে।
সূত্র: ThePrint










