প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প মিলারকে তার অন্যতম বিশ্বস্ত উপদেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, তিনি সুজি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
৪১ বছর বয়সী স্টিফেন মিলারকে ট্রাম্প প্রশাসনের কট্টর অভিবাসননীতি এবং গণবিতাড়ন কর্মসূচির মূল স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগে তিনি প্রশাসনের নীতিবিষয়ক ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কলেজ জীবন থেকেই রক্ষণশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মিলার ২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রথম নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা ও ভাষণ লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মিলার ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৮ সালের 'জিরো টলারেন্স' নীতি, যার অধীনে সীমান্তে আসা পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এ ছাড়া মুসলিমপ্রধান কয়েকটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ড্রিমারদের সুরক্ষা প্রদানকারী 'ডাকা' (DACA) কর্মসূচি বাতিলের উদ্যোগের পেছনেও তার বড় ভূমিকা ছিল।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ফের ক্ষমতায় আসার পর মিলার দেশজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অভিযান ও গণবিতাড়ন কার্যক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন। তিনি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই-কে প্রতিদিন অন্তত তিন হাজার মানুষকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নির্ধারণের কথা প্রকাশ করেছিলেন। পাশাপাশি ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নির্দিষ্ট কিছু ভিসা ও গ্রিনকার্ডধারীকে বহিষ্কারের পদক্ষেপের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এলো। আগামী জানুয়ারিতে কংগ্রেসের নতুন অধিবেশন শুরু হলে মিলারের হোয়াইট হাউসের ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা তদন্ত শুরু করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ হোয়াইট হাউসের কর্মী ব্যবস্থাপনা, প্রেসিডেন্টের কর্মসূচি এবং তথ্য প্রবাহের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ পদটিকে প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে প্রভাবশালী নীতি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা হিসেবে দেখা হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর এই পদে অভিবাসনবিরোধী কট্টরপন্থী মিলারকে বসানো ইঙ্গিত দেয় যে ট্রাম্প প্রশাসন তার বিতর্কিত নীতিগুলো থেকে পিছু হটছে না, বরং সেগুলোতে আরও জোর দিচ্ছে।
সূত্র: Al Jazeera English


















