বরগুনার উপকূলীয় উপজেলা পাথরঘাটার বলেশ্বর নদীর তীরঘেঁষা রুহিতা গ্রামে বছরের পর বছর ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট চলছে। আশপাশে নিরাপদ পানির কোনো উৎস না থাকায় খাবার ও রান্নার পানির জন্য প্রতিদিন প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরের একটি পুকুরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

গ্রামের অধিকাংশ পরিবার মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বলেশ্বর নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে টানা সাত থেকে দশ দিন বাড়ির বাইরে থাকেন। ফলে ঘরে থাকা নারী ও শিশুদের ওপরই পানি সংগ্রহের মূল দায়িত্ব পড়ে। দিনের বেলা দূরের পথে যাতায়াত কঠিন হওয়ায় এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে সন্ধ্যার পর নারীরা দলবদ্ধভাবে কলসি, বালতি ও জার হাতে বের হন। এই দীর্ঘ যাতায়াতের কারণে সময় ও শ্রম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।

উপকূলীয় এই এলাকায় লবণাক্ততা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং নিরাপদ উৎসের অভাবের কারণে সংকট দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সগির আলম জানান, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীসংলগ্ন হওয়া সত্ত্বেও সুপেয় পানির অভাবে স্থানীয়রা পানিবাহিত নানা রোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসান জানান, হাসপাতালের একটি ফিল্টার প্রায় আড়াই বছর ধরে নষ্ট এবং তা মেরামতের চেষ্টা চলছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, সুপেয় পানির সংকট নিরসনে পুকুর খনন ও ফিল্টার স্থাপনের কাজ চলছে এবং অনেক পানির ট্যাংক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাথরঘাটা উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি এরফান আহমেদ সোয়েন জানান, নিরাপদ পানি সংরক্ষণের জন্য উপজেলায় দুই হাজার ট্যাংক বরাদ্দের আশ্বাস পাওয়া গেছে, যার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০০টি সরবরাহ করা হবে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

উপকূলীয় এলাকার এই সংকট মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি নারীদের নিরাপত্তা এবং শিশুদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনকে সরাসরি ব্যাহত করছে।