ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলে সর্বোচ্চ দুই কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তথ্য প্রদানকারীকে প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ (Rewards for Justice) কর্মসূচির আওতায় এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্থাপনা, ব্যবহৃত সরঞ্জাম, বিজ্ঞানী, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ এই অর্থ পেতে ঠিক কী ধরনের তথ্য দিতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। ১৯৮৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়ে আসছে।

পুরস্কারের প্রেক্ষাপট নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) নিরাপত্তাবিষয়ক বাধ্যবাধকতা মানছে না। ফলে সংস্থাটি দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর নিয়মিত নজরদারি চালাতে পারছে না। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের উৎপাদন এবং মজুত সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি কোনো নিয়মিত তথ্য পাচ্ছে না।

এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, আট মাসের সংঘাতে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি এখন যুদ্ধ বন্ধের জন্য চুক্তি করতে আগ্রহী এবং তারা আলোচনায় যুক্ত রয়েছে। যদিও মধ্যস্থতাকারী বিভিন্ন দেশ সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সম্প্রতি জানিয়েছেন, তাঁর সরকার আলোচনার মাধ্যমেই সংকট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) নজরদারির বাইরে থাকা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও সেন্ট্রিফিউজ কার্যক্রমের ওপর সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতেই যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।