যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কানাডার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে নজরদারি বাড়ছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি এবং কানাডার সঙ্গে চলমান শুল্ক বিরোধের গতিপথ নির্ধারিত হতে পারে।

কানাডার সংসদীয় বাজেট কর্মকর্তার ২০ অক্টোবরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক পদক্ষেপগুলোর কারণে কানাডীয় পণ্যে মার্কিন শুল্কের কার্যকর গড় হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কানাডার প্রকৃত জিডিপি ১ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে এবং কর্মসংস্থান সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে এই পরিসংখ্যানগুলো সম্ভাব্য পরিস্থিতির পূর্বাভাস, নিশ্চিত কোনো ফলাফল নয়।

চলমান এই বাণিজ্য বিরোধের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে কানাডার অটোমোবাইল, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, কৃষি ও জ্বালানি খাতে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা সংকুচিত হতে পারে, কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং ভোক্তাপর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৩ শতাংশ কানাডীয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় কঠোর অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় কানাডার কোনো অযৌক্তিক ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যিক পদক্ষেপগুলোর ওপর আইনসভার নজরদারি বাড়তে পারে। তবে কংগ্রেসের দলীয় নিয়ন্ত্রণ বদল হলেই বিদ্যমান শুল্ক প্রত্যাহার হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর উভয় দেশের মধ্যকার ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক আলোচনা ও সমঝোতার সিদ্ধান্তের ওপরই কানাডার রপ্তানি, বিনিয়োগ ও জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকটাই নির্ভর করছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার নিয়ন্ত্রণ বদল হলে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির ওপর নজরদারি বাড়তে পারে, যা কানাডার অটোমোবাইল, ইস্পাত ও কৃষি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যকে প্রভাবিত করবে।

সূত্র: Channel i Online