দৃশ্য দেখে তথ্য বিশ্লেষণ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কাক অত্যন্ত দক্ষ। জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব টিউবিঙ্গেন-এর দুই স্নায়ুবিজ্ঞানী ফিলিপ শ্মিডবাউয়ার ও আন্দ্রেয়াস নিডারের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৬ সালে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’ (Science)-এ এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়।
গবেষকেরা দুটি ক্যারিয়ন কাককে (Carrion Crow) টাচস্ক্রিনে চলমান বিন্দুর দিক শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ দিয়ে এই পরীক্ষা চালান। সঠিক দিক বেছে নিতে পারলে কাকগুলোকে খাবার দেওয়া হতো। পরীক্ষায় দেখা যায়, কাকগুলো গড়ে মাত্র ২৩৫ মিলিসেকেন্ডে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে, যা এক সেকেন্ডের চার ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম। গবেষকদের মতে, এই নির্দিষ্ট পরীক্ষায় কাকের সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি মানুষ ও বানরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। তবে এটি সব ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নয়, বরং দৃশ্যভিত্তিক নির্দিষ্ট গতিবিধি শনাক্ত করার ক্ষেত্রেই প্রমাণিত হয়েছে।
পর্দায় বিন্দুগুলোর গতি অস্পষ্ট বা জটিল থাকলেও কাকগুলো আন্দাজে উত্তর দেয়নি। কঠিন পরিস্থিতিতেও তাদের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত নির্ভুল ছিল এবং দিক স্পষ্ট থাকলে নির্ভুলতার হার ছিল প্রায় শতভাগ। কাকের মস্তিষ্কের ‘নিডোপ্যালিয়াম কাউডোল্যাটেরালে’ (Nidopallium caudolaterale) অংশের স্নায়ুকোষ পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, পর্দায় বিন্দু প্রদর্শনের মাত্র ৭০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যেই স্নায়ুকোষে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।
মানুষের মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্সের সঙ্গে পাখির মস্তিষ্কের গঠনের পার্থক্য রয়েছে। তবে এই গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে, মস্তিষ্কের গঠন আলাদা হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কিছু মৌলিক স্নায়বিক প্রক্রিয়া স্তন্যপায়ী ও পাখির ক্ষেত্রে একই রকম হতে পারে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ওড়ার সময় দ্রুত বাধা এড়ানো বা খাবার সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা থেকেই হয়তো কাকের মধ্যে এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা বিবর্তিত হয়েছে। তবে এই পরীক্ষাটি মাত্র দুটি কাকের ওপর চালানো হয়েছিল, ফলে সামগ্রিক বিষয়ে চূড়ান্ত নিশ্চিত হতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
এত দিন ধারণা করা হতো বড় মস্তিষ্ক বা স্তন্যপায়ীর মতো সেরিব্রাল কর্টেক্স ছাড়া জটিল চিন্তাভাবনা সম্ভব নয়। কাকের মস্তিষ্কের এই কার্যপ্রণালী প্রমাণ করে যে ভিন্ন শারীরিক গঠনের মস্তিষ্কেও অত্যন্ত দক্ষ ও দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ সম্ভব, যা প্রাণিজগতের বুদ্ধিমত্তা মূল্যায়নে বিজ্ঞানীদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিচ্ছে।
সূত্র: Ei Samay










