স্মার্টফোনের পর্দায় দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকার পর চোখ গরম, শুষ্ক, খসখসে লাগা বা পানি পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকে এর জন্য স্ক্রিনের আলো বা ব্লু লাইটকে দায়ী করলেও মূল কারণটি সাধারণত চোখের পলক ফেলার হার কমে যাওয়া।

স্বাভাবিক অবস্থায় একজন মানুষ প্রতি মিনিটে প্রায় ১৫ থেকে ২০ বার চোখের পলক ফেলে। প্রতিটি পলকের মাধ্যমে চোখের ওপর অশ্রু ও তেলের একটি পাতলা স্তর তৈরি হয়, যা চোখকে আর্দ্র ও সুরক্ষিত রাখে। তবে ফোনের স্ক্রিনে মনোযোগ দেওয়ার সময় এই পলক ফেলার হার অর্ধেকেরও বেশি কমে যেতে পারে। অনেক সময় অসম্পূর্ণভাবে পলক ফেলার কারণে চোখের উপরিভাগের আর্দ্রতা দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায় এবং জ্বালা সৃষ্টি করে। এছাড়া ফ্যান বা এয়ার কন্ডিশনারের সরাসরি বাতাস এই শুষ্কতা আরও বাড়িয়ে তোলে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যানুযায়ী, স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’ ও ‘ড্রাই আই’ দুটি আলাদা বিষয় হলেও একসঙ্গে ঘটতে পারে। কাছের কোনো বস্তুর দিকে একটানা তাকিয়ে থাকার কারণে দৃষ্টিতে যে ক্লান্তি আসে তাকে ডিজিটাল আই স্ট্রেইন বা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম বলে, যার লক্ষণ সাময়িক ঝাপসা দৃষ্টি যা বিশ্রাম নিলে সেরে যায়। অন্যদিকে চোখে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকলে বা অশ্রু দ্রুত শুকিয়ে গেলে ড্রাই আই বা শুষ্ক চোখের সমস্যা হয়, যা পলক ফেলার পর কিছুটা ঠিক হতে পারে। অপথালমোলজি অ্যান্ড থেরাপি জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে অ্যালার্জি, কন্টাক্ট লেন্সের ব্যবহার, চোখের পাতার প্রদাহ, ধুলোবালি বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের ফলেও চোখে অস্বস্তি হতে পারে।

স্মার্টফোন থেকে নির্গত নীল আলো বা ব্লু লাইট চোখের স্থায়ী ক্ষতি করে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। ফলে ব্লু-লাইট ফিল্টার ব্যবহার আরামদায়ক মনে হলেও তা সঠিক অভ্যাসের বিকল্প নয়। নিয়মিত স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনভাবে পলক ফেলা, প্রতি ২০ মিনিট পর পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকানো এবং সরাসরি বাতাস চোখে না লাগানোর মতো অভ্যাস চোখকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

দৈনন্দিন কাজে স্ক্রিনের ব্যবহার বাড়ার কারণে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং দৃষ্টিশক্তির সাময়িক ক্লান্তি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্বস্তির মূল কারণ বুঝে সহজ কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন চোখের আর্দ্রতা ও স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

আপনার কী করা উচিত?

  1. 1প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন দেখার পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরবর্তী কোনো বস্তুর দিকে তাকিয়ে চোখকে বিশ্রাম দিন।
  2. 2ফোন বা স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সচেতনভাবে নিয়মিত ও সম্পূর্ণ চোখের পলক ফেলুন।
  3. 3ফোন চোখের লেভেলের সামান্য নিচে রাখুন, যাতে চোখের কম অংশ সরাসরি উন্মুক্ত থাকে এবং আর্দ্রতা কম শুকায়।
  4. 4ফ্যান বা এয়ার কন্ডিশনারের ভেন্ট থেকে আসা সরাসরি বাতাস সরাসরি মুখের দিকে পড়া এড়িয়ে চলুন।
  5. 5প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লুব্রিকেটিং বা প্রিজারভেটিভ-মুক্ত আই ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন।
  6. 6কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত সমস্যা চলতে থাকলে বা চোখ লাল হওয়া, ব্যথা ও ঝাপসা দৃষ্টি না কমলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন।

সূত্র: Dhaka Post