মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা ইলহান ওমরের বাড়িতে সম্প্রতি ভোরে ফেডারেল এজেন্টরা একটি তল্লাশি অভিযান চালান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওমরের কয়েক দশক পুরোনো মার্কিন অভিবাসন নথিপত্র নিয়ে চলা একটি তদন্তের অংশ হিসেবেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, সোমবারের ওই তল্লাশির জন্য জারি করা সিলগালা পরোয়ানায় সম্ভাব্য অপরাধ হিসেবে ষড়যন্ত্র, অভিবাসন নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং অভিবাসন জালিয়াতির উল্লেখ ছিল। সোমালি বংশোদ্ভূত ওমর বা তার পরিবারের সদস্যরা ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় কিংবা নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল বা অসত্য তথ্য দিয়েছিলেন কি না, তদন্তে মূলত সে বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ার একটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে ওমরের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল (ডিন্যাচারালাইজেশন) করে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়ন করা। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা এর আগে এমন পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। তবে ওমর কোনো ধরনের অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন এবং এই তল্লাশি অভিযানকে ‘রাজনৈতিক ভয়ভীতি প্রদর্শন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) তদন্ত শাখা ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস’-এর এজেন্টরা তল্লাশির সময় ওমরের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ ছাড়া ফেডারেল প্রসিকিউটররা এক ডজনেরও বেশি সমন জারি করেছেন, যার মধ্যে ওমরের অন্তত একজন আত্মীয়ও রয়েছেন। ওমরের এক বোন ফেডারেল এজেন্টদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় কথা বলেছেন বলেও জানা গেছে। রয়টার্সসহ ১৪টি সংবাদ সংস্থার একটি জোট তল্লাশি সংক্রান্ত আদালতের রেকর্ডগুলো উন্মুক্ত করার জন্য বিচারকের কাছে আবেদন জানিয়েছে।

বিচার বিভাগ ওমরের চলমান এই তদন্ত নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব আইনসম্মতভাবে ও সততার সঙ্গে অর্জন করতে হবে এবং নাগরিকত্ব বাতিলের তথ্যপ্রমাণ থাকলে প্রশাসন তদন্ত চালাবে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে বাড়ি তল্লাশি করে নাগরিকত্ব বাতিলের তদন্ত করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক, কারণ প্রয়োজনীয় অভিবাসন সংক্রান্ত নথি সরকারের কাছে আগে থেকেই সংরক্ষিত থাকে।

সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে কেনিয়ার শরণার্থী শিবিরে কয়েক বছর থাকার পর ১৯৯৫ সালে ১২ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন ওমর। পরবর্তীতে ২০০০ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

সাধারণত ডিন্যাচারালাইজেশন বা নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা গুরুতর যুদ্ধাপরাধ বা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনায় সীমাবদ্ধ থাকত। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে বিচার বিভাগ ইতিমধ্যে অন্তত ১৬৪টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করেছে, যেখানে ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে মাত্র ১১টি এমন মামলা হয়েছিল। একই সঙ্গে নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে একজন দায়িত্বশীল আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার নজির তৈরি করছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: The Business Standard