যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিমালায় কঠোর কড়াকড়ির কারণে নাগরিকত্ব (Naturalization) পাওয়ার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে পড়েছে। সরকারি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় দেশটিতে নাগরিকত্ব আবেদনের অনুমোদন প্রায় ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার।
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)-এর এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই তিন মাসে সংস্থাটি প্রায় ৭১ হাজার নাগরিকত্ব আবেদন নিষ্পত্তি করেছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে নিষ্পত্তিকৃত আবেদনের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার। অতীতে যেখানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭০ হাজার আবেদন অনুমোদিত হতো, বর্তমানে তা কমে মাসে প্রায় ২২ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে প্রতিটি আবেদনের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য এবং পূর্ববর্তী রিফিউজি বা অ্যাসাইলাম সংক্রান্ত দাবি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে অডিট করা হচ্ছে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের এক বিশ্লেষকের মতে, আবেদন সহজে বা নিয়মমাফিক অনুমোদনের পুরোনো ধারা থেকে প্রশাসন সরে এসেছে। প্রতিটি নথি অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করায় ছোটখাটো ভুলের জন্যও আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কোয়ার্টারে নিষ্পত্তি হওয়া ১ লাখ ৪০ হাজার ১৭৯টি আবেদনের মধ্যে ১২ হাজার ৫৯১টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এতে জাতীয় পর্যায়ে আবেদন বাতিলের হার বেড়ে প্রায় ১৯ শতাংশে ঠেকেছে, যা বছরের শুরুতে ছিল ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমানে প্রতি ৫ জন আবেদনকারীর মধ্যে প্রায় ১ জনের আবেদন বাতিল হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো বড় শহরগুলোতে এই রিজেকশনের হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
যাচাই-বাছাইয়ের কড়াকড়ির ফলে ব্যাকলগ বেড়ে ৭ লাখ ২৭ হাজারের বেশি আবেদন ঝুলে রয়েছে। আগে যেখানে নাগরিকত্ব পেতে ৫ থেকে ৬ মাস সময় লাগত, এখন আবেদনকারীদের গড়ে ১৩ মাস বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
পাশাপাশি অতিরিক্ত স্ক্রিনিংয়ের ব্যয় সামাল দিতে নাগরিকত্ব আবেদনের (Form N-400) ফি এক লাফে বিপুল পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কাগজে আবেদনের ক্ষেত্রে ফি ৭৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১,৩৩০ ডলার এবং অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ বাড়িয়ে ১,২৮০ ডলার নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই অতিরিক্ত কঠোর হওয়ায় আবেদনকারীদের অপেক্ষার সময় যেমন দ্বিগুণ হয়েছে, তেমনি ফি বৃদ্ধির প্রস্তাবের কারণে নিম্ন আয়ের বৈধ অভিবাসীদের জন্য মার্কিন নাগরিক হওয়া আরও ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের (গ্রিনকার্ড) পর যেসব বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন বা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড, অতীত অ্যাসাইলাম তথ্য ও ট্যাক্স নথির নির্ভুলতা আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্কতার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। প্রক্রিয়াকরণে দীর্ঘসূত্রতা তাদের ভোটাধিকার ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা পাওয়ার সময়সীমাকেও পিছিয়ে দিচ্ছে।
আপনার কী করা উচিত?
- 1নাগরিকত্বের জন্য Form N-400 জমা দেওয়ার আগে ট্যাক্স রেকর্ড, ভ্রমণের ইতিহাস ও পূর্ববর্তী সব আবেদনপত্রের তথ্য সতর্কতার সাথে মিলিয়ে নিন।
- 2প্রস্তাবিত নতুন ফি কার্যকর হওয়ার আগেই ফি সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের জন্য USCIS-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করুন।
- 3জটিল ব্যাকগ্রাউন্ড বা অতীতের কোনো ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জটিলতা থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে অনুমোদিত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
সূত্র: Bangla Shangbad












