পবিত্র কোরআন কেবল ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, এটি মানুষের সার্বিক জীবন পরিচালনার পথনির্দেশ। দৈনন্দিন জীবনের নানা ব্যস্ততা, হতাশা কিংবা মানসিক অস্থিরতার মধ্যে নিয়মিত অল্প সময় কোরআন তিলাওয়াত করা একজন ব্যক্তির জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ইসলামের বিভিন্ন নির্দেশনা ও হাদিস অনুযায়ী প্রতিদিন কোরআন পড়ার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা রয়েছে।
কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে প্রথমত অন্তরে প্রশান্তি অনুভূত হয়। সূরা আর-রাদের ২৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অন্তর শান্তি পায়। এছাড়া প্রতিটি অক্ষর পাঠের জন্যও রয়েছে বিপুল সওয়াব। সুনান আত-তিরমিজির একটি হাদিস অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) উল্লেখ করেছেন যে কোরআনের একটি অক্ষর পাঠ করলে দশটি নেকি পাওয়া যায়।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও এর গভীর প্রভাব রয়েছে। এটি সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বোঝার প্রজ্ঞা তৈরি করে এবং জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ঘরে নিয়মিত তিলাওয়াতের চর্চা থাকলে পরিবারের ভেতরে, বিশেষ করে শিশুদের মাঝে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সুন্দর পরিবেশ গড়ে ওঠে। পরকালীন জীবনেও কোরআন পাঠকারীর জন্য সুপারিশের মাধ্যম হবে বলে সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
দৈনন্দিন জীবনে এই অভ্যাস বজায় রাখার জন্য বিশেষজ্ঞরা বড় লক্ষ্য নির্ধারণ না করে অল্প সময় দিয়ে শুরু করার পরামর্শ দেন। প্রতিদিন ফজরের পর কিংবা সুবিধাজনক সময়ে অন্তত ১০ মিনিট তিলাওয়াত করা, অর্থ বোঝার চেষ্টা করা এবং শুদ্ধ উচ্চারণের জন্য প্রয়োজনে শিক্ষকের সহায়তা নেওয়ার মাধ্যমে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব।
আপনার কী করা উচিত?
- 1প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর বা সুবিধাজনক সময়ে অন্তত ১০ মিনিট কোরআন তিলাওয়াতের জন্য নির্ধারণ করুন।
- 2শুধু তিলাওয়াত নয়, নিয়মিত কয়েকটি আয়াতের অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন।
- 3শুদ্ধ উচ্চারণ ও নিয়ম শেখার জন্য প্রয়োজনে অভিজ্ঞ শিক্ষকের সহায়তা নিন।
সূত্র: Channel i Online










