প্রাতিষ্ঠানিক মাদ্রাসায় গিয়ে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করার সুযোগ সবার না থাকলেও দৈনন্দিন জীবন পরিচালনায় প্রয়োজনীয় ধর্মীয় জ্ঞান ঘরে বসেই অর্জন করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে নিজস্ব মনগড়া ব্যাখ্যার বদলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, প্রামাণ্য গ্রন্থ এবং দক্ষ ও খোদাভীরু আলেমের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে শুধু তেলাওয়াত নয়, বরং মর্মার্থ অনুধাবনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুরুতে কায়দা বা তাজবিদের নির্ভরযোগ্য বইয়ের মাধ্যমে কোনো দক্ষ কারি বা অডিও-ভিডিও অ্যাপের সহায়তায় হরফের মাখরাজ ও সিফাত ঠিক করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সহিহ অনুবাদের সঙ্গে আয়াতের প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য সংক্ষিপ্ত তাফসির পাঠের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় বিশ্বাসের বিভ্রান্তি দূর করতে সঠিক আকিদা বা শরিয়তের মৌলিক বিশ্বাস গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাওহিদ, রিসালাত, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, পরকাল ও তকদিরের মতো মৌলিক বিষয়গুলো পরিষ্কার করতে সহজ আকাইদ শাস্ত্রের গ্রন্থ বা আলেমদের লেখা পুস্তিকা পড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দৈনন্দিন জীবনের হালাল-হারাম, পবিত্রতা, নামাজ, রোজা ও লেনদেনের মাসআলা জানার ক্ষেত্রে হানাফি ফিকহের আলোকে মুফতি কেফায়েতুল্লাহ দেহলভির ‘তা’লিমুল ইসলাম’ (৪ খণ্ড) অথবা মাওলানা আশরাফ আলী থানবির ‘বেহেশতী জেওর’ অধ্যয়নকে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এছাড়া নবীজির সুন্নাহ ও চারিত্রিক গুণাবলি অর্জনে হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম নববির সংকলিত ‘রিয়াদুস সালেহিন’ দিয়ে পাঠ শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিদিন ফজর কিংবা রাতে অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখা, খাতায় নোট নেওয়া এবং কোনো বিষয়ে সংশয় দেখা দিলে স্থানীয় বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির মাধ্যমে তা যাচাই করে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
আপনার কী করা উচিত?
- 1প্রতিদিন ফজরের পরে অথবা রাতে ঘুমানোর আগে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় ধর্মীয় অধ্যয়নের জন্য নির্দিষ্ট রাখা।
- 2কোরআন তেলাওয়াত ও তাজবিদ সংশোধনে নির্ভরযোগ্য কায়দা এবং কোনো কারি অথবা সহায়ক অডিও-ভিডিও অ্যাপ ব্যবহার করা।
- 3দৈনন্দিন মাসআলা জানতে 'তা'লিমুল ইসলাম' বা 'বেহেশতী জেওর' এবং চরিত্র গঠনে 'রিয়াদুস সালেহিন' পাঠ করা।
- 4পড়ার সময় কোনো মাসআলা নিয়ে সংশয় দেখা দিলে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া।
সূত্র: Prothom Alo










