ব্যবসায়িক কার্যক্রমের উদ্দেশ্য কেবল অর্থ উপার্জন বা মুনাফা সর্বোচ্চকরণে সীমাবদ্ধ না রেখে একে বৃহত্তর নৈতিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতার সাথে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষক মোহাম্মদ ফারিস। 'প্রোডাক্টিভ মুসলিম'-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে তিনি প্রচলিত করপোরেট ধারণার বাইরে গিয়ে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্যগুলো আলোচনা করেছেন।

ফারিসের মতে, ব্যবসায়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মানুষের পারস্পরিক প্রয়োজন পূরণ করা। তবে এই প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে কোনো পক্ষের দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া বা অনৈতিক বিপণন কৌশল ব্যবহার করা উচিত নয়। ইসলামী নীতি অনুযায়ী কেনাবেচায় উভয় পক্ষের পারস্পরিক সন্তুষ্টি (তরাদি) থাকা জরুরি। একই সাথে পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে পরিবেশ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকে নজর রেখে বিষয়টি যাতে হালাল ও তায়্যিব (পবিত্র ও কল্যাণকর) হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, রাতারাতি বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক হওয়ার অন্ধ দৌড়ে না নেমে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন ও পরিবারের মর্যাদা রক্ষা করাকেই উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য করা উচিত। মাত্রাতিরিক্ত লোভ ও লাগামহীন কাজের সংস্কৃতি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ও ইবাদতের ভারসাম্য নষ্ট করে। ইসলামে পরিমিতিবোধ ও সন্তুষ্টির (কিফায়াহ) ধারণাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীকে অনৈতিক পথ থেকে দূরে রাখে।

এ ছাড়া ব্যবসাকে একটি সামাজিক দায়িত্ব বা 'ফরজে কিফায়াহ' হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সমাজে বা অর্থনীতিতে যেসব প্রয়োজনীয় খাতের অভাব রয়েছে—যেমন স্থানীয়ভাবে জরুরি সরবরাহ নিশ্চিত করা বা গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির উন্নয়ন—সেসব শূন্যতা পূরণে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সম্পদের সুষম প্রবাহ তৈরি এবং সমাজের জনকল্যাণমূলক কাজে অবদান রাখাকেও ব্যবসায়ের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

আধুনিক করপোরেট ও স্টার্টআপ সংস্কৃতিতে প্রায়ই কর্মীদের ওপর তীব্র মানসিক চাপ তৈরি হয় এবং অনৈতিক মুনাফার প্রবণতা বাড়ে। এই প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ের নৈতিক ও সামাজিক উদ্দেশ্যের ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি একটি বিকল্প ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।

সূত্র: Productive Muslim