ইসলামে যিশু—যিনি আরবিতে ঈসা নামে পরিচিত—অন্যতম সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ এক ব্যক্তিত্ব। কোরআনে তাঁকে কোনো প্রান্তিক চরিত্র হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর প্রেরিত প্রধান বার্তাবাহক ও নবী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইসলামি বিশ্বাসের অপরিহার্য অংশ হিসেবে তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন বাধ্যতামূলক হলেও ইসলামে তাঁর মর্যাদা ও অবস্থানের নির্দিষ্ট ধর্মতাত্ত্বিক সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোরআন অনুযায়ী, ঈসা (আ.)-কে পিতা ছাড়া অলৌকিকভাবে কুমারী মাতার গর্ভে জন্ম দেওয়া হয়েছিল এবং শৈশবেই তিনি বাকশক্তি প্রদর্শন করে নিজের দাসত্ব ও নবিত্বের ঘোষণা দেন। তাঁর মা মরিয়মকে গভীর ভক্তি ও সম্মানের স্থান দেওয়া হয়েছে এবং কোরআনের একটি সম্পূর্ণ সূরার নামকরণও তাঁর নামে করা হয়েছে। কোরআন ঈসাকে ‘আল-মসীহ’ বা মেসায়া হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবে এটি খ্রিস্টধর্মীয় পরিত্রাণ বা অবতারবাদের ধারণার চেয়ে ভিন্ন—এখানে এটি আল্লাহর এক বিশেষ মিশন ও সম্মানজনক দায়িত্বের প্রতীক।
কোরআনে বর্ণিত বিবরণে বলা হয়েছে, তিনি আল্লাহর নির্দেশে কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করা, অন্ধের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়া, মাটির পাখিকে জীবিত করা এবং মৃতকে পুনরুজ্জীবিত করার মতো বহু অলৌকিক নিদর্শন প্রদর্শন করেছিলেন। তবে ইসলামি ধর্মতত্ত্বে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে যে, এই প্রতিটি অলৌকিক ঘটনাই ঘটেছে ‘আল্লাহর অনুমতিতে’। ফলে এসব নিদর্শন তাঁর নবিত্বের প্রমাণ দেয়, কিন্তু কোনোভাবেই তাঁর ঈশ্বরত্ব প্রমাণ করে না।
একই সঙ্গে কোরআন যিশুকে ঈশ্বরের অংশ, তাঁর পুত্র বা ত্রিত্ববাদের অংশ হিসেবে গ্রহণ করার দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে। ইসলামে তাওহিদ বা একত্ববাদের বার্তা প্রচারই ছিল তাঁর মূল দায়িত্ব। ইসলামি বিবরণ অনুসারে, তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করা বা হত্যা করা হয়নি, বরং আল্লাহ তাঁকে জীবিত অবস্থায় নিজের কাছে তুলে নেন। কোরআন ও হাদিসের বর্ণনায়, কিয়ামতের পূর্বে একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে তাঁর পুনরায় আগমনের কথাও উল্লেখ রয়েছে, যেখানে শেষ বিচারের দিনে তিনি নিজে তাঁর প্রতি আরোপিত যেকোনো ধরনের উপাসনার দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করবেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে সম্পর্ক এবং যিশুর পরিচয় নিয়ে প্রচলিত সাধারণ ভুল ধারণাগুলোর স্পষ্ট সমাধান দেয় কোরআনের এই দৃষ্টিভঙ্গি। এটি দেখায় কীভাবে ইসলাম তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করার পাশাপাশি উপাসনার ক্ষেত্র থেকে সম্পূর্ণ পৃথক রাখে।
সূত্র: Quran.com










