বিয়ে, জন্মদিন কিংবা পারিবারিক আয়োজনে দাওয়াত খাওয়া সামাজিক জীবনের নিয়মিত অংশ। অনেক ক্ষেত্রে দাওয়াত শেষে আয়োজককে অর্থ দেওয়া হয়—কেউ উপহার হিসেবে দেন, আবার কেউ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে। তবে ইসলামি বিধানে দাওয়াতের বিনিময় ও স্বেচ্ছায় সহযোগিতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
ইসলামে মেহমানদারি ও আপ্যায়নকে একটি প্রশংসনীয় নৈতিক আচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়। সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে সাধারণ মেহমানদারি কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন নয় এবং দাওয়াত গ্রহণের পর খাবারের মূল্য পরিশোধের কোনো বাধ্যবাধকতা অতিথির ওপর থাকে না। আয়োজকও পূর্বশর্ত ছাড়া কারও কাছ থেকে অর্থ দাবি করতে পারেন না।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, দাওয়াত খেয়ে আয়োজকের প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা বা সহযোগিতার উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় টাকা দেওয়া জায়েজ এবং তা উপহার বা হাদিয়া হিসেবে গণ্য হবে। হাদিস শরিফে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া কোনো আয়োজনে অংশ নেওয়ার আগে যদি সবাই মিলে যৌথভাবে খরচ বহনের সমঝোতা থাকে, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে সেই অর্থ পরিশোধ করাও বৈধ।
তবে সামাজিক লোকলজ্জা, সমালোচনার ভয় কিংবা বাধ্যবাধকতা থেকে অর্থ দেওয়া উপহারের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইসলামে কাউকে এ ধরনের আর্থিক চাপে ফেলা অনুচিত বলে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ, দাওয়াত শেষে সামর্থ্য অনুযায়ী উপহার হিসেবে অর্থ দেওয়া বৈধ হলেও এটিকে চাপিয়ে দেওয়া নিয়ম বা খাবারের মূল্য হিসেবে দেখা যাবে না।
সূত্র: Channel i Online










