মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ‘হিলফুল ফুজুল’ শান্তিচুক্তি। বিশ বছর বয়সে তিনি যে স্থানে এই অঙ্গীকারনামায় অংশ নিয়েছিলেন, সেটি ছিল কোরাইশ নেতা আবদুল্লাহ ইবনে জাদআনের ঘর। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই চুক্তি সম্পর্কে বলেছিলেন, এর বিনিময়ে তাঁকে লাল উট দেওয়া হলেও তিনি তা পছন্দ করতেন না এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার পরও এমন কোনো বিষয়ে আহ্বান জানালে তিনি তাতে সাড়া দেবেন।
আবদুল্লাহ ইবনে জাদআন ইবনে আত-তায়মি আল-কুরাশি আল-কিনানি ছিলেন বনু কিনানার নেতা এবং দানশীলতা ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য পরিচিত। ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনামতে, আত্মীয়তার দিক থেকে তিনি ছিলেন সাহাবি হজরত আবু বকর (রা.)-এর পিতা আবু কুহাফার চাচাতো ভাইয়ের সন্তান। ফলে তাঁর বাড়িটি আবু বকর (রা.)-এর বাড়ির কাছাকাছি বা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ছিল।
পরবর্তী সময়ে মক্কার ইতিহাসবিদ আল-ফাকিহি ও আল-ফাসির মতো গবেষকদের বিবরণে জানা যায়, পরবর্তী যুগে মসজিদ সম্প্রসারণের ধারায় এই ঐতিহাসিক ঘরের অবশিষ্টাংশ একপর্যায়ে মসজিদে হারামের চত্বরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। আব্বাসীয় খলিফা আল-মাহদির আমলে মসজিদে হারামের সম্প্রসারণকালে ঘরের সেই অংশকে চত্বরে রূপান্তর করা হয়।
হিলফুল ফুজুল চুক্তিটির পটভূমি তৈরি হয়েছিল তৎকালীন আরবের বিখ্যাত ‘হারবুল ফিজার’ যুদ্ধের পর। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, এ যুদ্ধের পর সমাজে শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার তাগিদে এই শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়। এ ছাড়া বদর যুদ্ধের পর আবু জাহেলের পরিচয় শনাক্তকরণের সময়ও রাসুলুল্লাহ (সা.) ইবনে জাদআনের ঘরের একটি স্মৃতি উল্লেখ করেছিলেন, যা সিরাত গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে।
সূত্র: Prothom Alo










