ইসলামি জীবনাচরণে একজন মুমিনের জন্য নামাজ, রোজা, দান-সদকা কিংবা মানুষের উপকারের মতো সৎকাজগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব আমল আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার জন্য কিছু মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হয়। আলেম ও গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইবাদত গ্রহণযোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে চারটি বিষয় প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
প্রথম শর্ত হলো বিশুদ্ধ ঈমান। শিরকমুক্ত থেকে আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস রাখা ছাড়া কোনো নেক আমল পরকালে প্রতিদান এনে দিতে পারে না। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ১২৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মুমিন অবস্থায় সৎকর্মকারী নারী-পুরুষেরা জান্নাতে প্রবেশ করবে। ফলে সৎকাজের ফল পাওয়ার মূল ভিত্তিই হলো ঈমান রক্ষা করে চলা।
দ্বিতীয় শর্ত হলো রাসুলুল্লাহর (সা.) নির্দেশিত পদ্ধতির অনুসরণ। ধর্মের নামে নিজস্ব পদ্ধতিতে কোনো আমল তৈরি করলে তা গ্রহণযোগ্য হয় না। সহিহ বুখারির হাদিস অনুযায়ী, নবুওয়তি নির্দেশনার বাইরে ধর্মে নতুন কিছু সংযোজন করা হলে তা প্রত্যাখ্যাত হয়।
তৃতীয় শর্ত হলো হালাল উপার্জন ও পবিত্র খাবার গ্রহণ। নামাজ বা দান করা সত্ত্বেও উপার্জন কিংবা খাদ্য-পোশাক যদি হারামের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা ইবাদত কবুলের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, আল্লাহ কেবল পবিত্র বস্তুই কবুল করেন। দীর্ঘ সফরে থাকা একজন ব্যক্তি দোয়া করলেও তার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক যদি হারাম উপার্জনের হয়, তবে সেই দোয়া বা আমল গ্রহণযোগ্যতা পায় না।
চতুর্থ শর্ত হলো ইখলাস বা নিয়তের একনিষ্ঠতা। কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমল না করে মানুষের প্রশংসা, সামাজিক প্রতিষ্ঠা বা লোকদেখানোর (রিয়া) মানসিকতা থাকলে তা ইখলাসের পরিপন্থী হয়। সুরা বাইয়্যিনাহ ও সুরা মাউনে লোকদেখানো ইবাদত ও উদাসীনতার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তাই কোনো সৎকাজ করার আগে নিয়ত শুদ্ধ আছে কি না, তা যাচাই করা আবশ্যক।
সূত্র: Prothom Alo










