সহিহ মুসলিমে সাহাবি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বর্ণিত ‘হাদিসে জিবরাইল’ ইসলামি ধর্মতত্ত্বে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দলিল। বর্ণনায় বলা হয়েছে, ধবধবে সাদা পোশাক ও ঘন কালো চুলের এক অচেনা ব্যক্তি নবীজির দরবারে এসে মুখোমুখি বসে ইসলাম, ইমান, ইহসান ও কেয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। নবীজির উত্তর দেওয়ার পর তিনি চলে গেলে জানানো হয়, আগন্তুক ছিলেন ফেরেশতা জিবরাইল, যিনি ধর্ম শেখাতে এসেছিলেন। এই হাদিসটি ইসলামের বাহ্যিক আমল, আত্মিক বিশ্বাস ও নৈতিকতার সামগ্রিক ভিত্তিকে একসঙ্গে ধারণ করেছে।

হাদিসে ইসলামের সংজ্ঞায় পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের কথা বলা হয়েছে—তাওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য দেওয়া, নামাজ কায়েম করা, জাকাত দেওয়া, রমজানের রোজা রাখা এবং সামর্থ্য থাকলে হজ পালন করা। ইমাম নববির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এখানে প্রকাশ্য আমল ও মৌখিক স্বীকৃতির সমষ্টি তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে ইমানের ছয়টি ভিত্তি হিসেবে আল্লাহ, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, রাসুল, আখেরাত এবং তাকদিরের ভালো-মন্দের প্রতি অন্তরের বিশ্বাসকে নির্দেশ করা হয়েছে।

ইহসানের বর্ণনায় নবীজি উল্লেখ করেন, বান্দা এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন সে তাঁকে দেখছে, আর তা না হলে বিশ্বাস রাখবে যে আল্লাহ তাকে দেখছেন। ধর্মীয় পণ্ডিতদের মতে, এটি মানুষের ভেতর গোপন ও প্রকাশ্য জীবনের পবিত্রতা বজায় রাখার আত্মিক সচেতনতা তৈরি করে। এছাড়া কেয়ামত কবে হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত সময় একমাত্র আল্লাহর জানা উল্লেখ করে হাদিসে সামাজিক ও নৈতিক পরিবর্তনের আলামত এবং সার্বক্ষণিক ব্যক্তিগত প্রস্তুতির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জিবরাইল (আ.)-এর উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে শিক্ষকের সামনে শিক্ষার্থীদের বিনম্র আচরণ ও অর্থবহ প্রশ্ন তোলার আদবও এতে ফুটে উঠেছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, সুরা ফাতিহাকে যেমন ‘উম্মুল কুরআন’ বলা হয়, তেমনি হাদিসে জিবরাইল সমগ্র মৌলিক ও শাখাগত বিধান ধারণ করায় এটিকে ‘উম্মুস সুন্নাহ’ বা সুন্নাহর মূল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি ধর্মের বাহ্যিক আচার এবং অভ্যন্তরীণ আধ্যাত্মিকতার ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো নির্দেশ করে।

সূত্র: Prothom Alo