সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। খবর পড়া, কেনাকাটা কিংবা যোগাযোগের পাশাপাশি এটি মানুষের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গিকেও প্রভাবিত করছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে অনলাইনে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য যাচাই, সময়ের সদ্ব্যবহার এবং সামাজিক সম্পর্ক রক্ষায় ইসলামের কিছু নীতি মেনে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

প্রথমত, যেকোনো তথ্য ছড়ানোর আগে তা যাচাই বা 'তাবাইয়ুন' করার নির্দেশ দেয় ইসলাম। কোনো বিষয় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেই তা সত্য হয়ে যায় না। বিশেষ করে এআই দিয়ে তৈরি ছবি, কণ্ঠস্বর বা ভুয়া তথ্যের ক্ষেত্রে যাচাই না করে শেয়ার করলে মিথ্যা ছড়ানোর শঙ্কা থাকে। ধর্মীয় দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো তথ্য পাওয়ার পর নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম বা সরকারি সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত ও উদ্দেশ্যহীন সময় কাটানো বা 'ডুমস্ক্রলিং' পরিহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রল করা ক্লান্তি এবং মনোযোগের ঘাটতির কারণ হতে পারে। সুস্থতা ও অবসর সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং ঘুমের সময় ফোন দূরে রাখার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয়ত, অনলাইনে প্রবেশের আগে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ঠিক করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত পেজ ও অ্যাকাউন্ট অনুসরণের কারণে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কী কারণে অ্যাপ খোলা হচ্ছে, তা আগে নির্ধারণ করে সময় সচেতনভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চতুর্থত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাফল্যের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। এ ধরনের তুলনা থেকে হিংসা বা মানসিক অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী অপ্রয়োজনীয় বিষয় বর্জন করা এবং প্রতিটি পোস্টে প্রতিক্রিয়া বা বিতর্কে না জড়িয়ে ইতিবাচক আচরণ বজায় রাখা উচিত।

পঞ্চম নীতি হিসেবে বাস্তব সম্পর্কের প্রতি মনোযোগী হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভার্চুয়াল জগতে ব্যস্ত থাকার কারণে পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সময় দেওয়া অনেক সময় উপেক্ষিত হয়। পারিবারিক অনুষ্ঠান ও খাবারের সময় ফোন দূরে রেখে আশপাশের মানুষদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও মনোযোগ ধরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আপনার কী করা উচিত?

  1. 1চাঞ্চল্যকর বা আবেগপ্রবণ কোনো তথ্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার আগে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম বা সরকারি সূত্র থেকে যাচাই করে নিন।
  2. 2অপ্রয়োজনীয় ব্রাউজিং কমাতে ফোনের অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন এবং ঘুমানোর সময় ফোন নাগালের বাইরে রাখুন।
  3. 3পারিবারিক সময় ও খাবারের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করে আশপাশের মানুষদের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিন।

সূত্র: Dhaka Post