নামাজে কোনো সিজদা বাদ পড়ার পর তা আদায় করতে গিয়ে দুই সিজদার মাঝের বৈঠক না করলে নামাজের বিধান কী, সে বিষয়ে একটি ফতোয়ায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তরভিত্তিক ওয়েবসাইট ইসলামওয়েব। সেখানে ফিকহ বিশেষজ্ঞদের মতামতের আলোকে জানানো হয়েছে, দুই সিজদার মাঝখানে বসা নামাজের অন্যতম রুকন বা আবশ্যকীয় স্তম্ভ।
ইসলামওয়েবের ফতোয়া অনুযায়ী, কোনো মুসল্লি যদি প্রথম রাকাতে একটি সিজদা ভুলে গিয়ে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান এবং কিছুক্ষণ পরেই তা মনে পড়ে, তবে তাকে ফিরে এসে সেই সিজদা আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি যদি দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ানোর আগেই একবার বসে থাকেন, তবে সেই বসাই দুই সিজদার মাঝের বৈঠক হিসেবে গণ্য হবে। তবে তিনি যদি মোটেও না বসে সরাসরি দাঁড়িয়ে গিয়ে থাকেন, তাহলে ফিরে এসে আগে বসতে হবে এবং এরপর সিজদা দিতে হবে।
ফতোয়াটিতে উল্লেখ করা হয়, যদি কেউ না বসে সরাসরি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থা থেকেই ফেলে আসা সিজদায় চলে যান, তবে অধিকাংশ ফকিহর মতে তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। যদিও কোনো কোনো আলেমের মতে নামাজটি সহিহ হতে পারে, তবে আলেমদের মতভেদ এড়াতে সতর্কতা হিসেবে ওই নামাজ পুনরায় পড়ে নেওয়া উত্তম।
এ বিষয়ে শাফেয়ি ও মালেকি মাজহাবের প্রখ্যাত ফিকহ গ্রন্থের উদ্ধৃতি তুলে ধরা হয়েছে। ইমাম রামলি শাফেয়ি তাঁর ‘নেহায়াতুল মুহতাজ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে প্রথম রাকাতের সিজদা বাদ পড়ার কথা মনে পড়লে, যদি দাঁড়ানোর আগে বসা হয়ে থাকে তবে সরাসরি সিজদা দিলেই চলবে। অন্যদিকে হাশিয়াতুদ দুসুকি আল-মালিকিতে উল্লেখ রয়েছে, দুই সিজদার মাঝে বসা ফরজ হওয়ায় না বসে সরাসরি সিজদা দিলে নামাজ বাতিলের মতটিই জোরালো, যদিও সেখানে ভিন্ন একটি মতও রয়েছে।
এছাড়া ফতোয়ায় আরও স্পষ্ট করা হয়, নামাজ শেষ করার পর যদি দুই সিজদার মাঝে বসেছিলেন কি না সে বিষয়ে নিছক সন্দেহ তৈরি হয়, তবে সেই সন্দেহের কোনো মূল্য নেই। কারণ নামাজ সম্পন্ন হওয়ার পরের সংশয় বা সন্দেহ নামাজের কোনো ক্ষতি করে না।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
নামাজের অন্যতম রুকন ‘দুই সিজদার মাঝের বৈঠক’ বাদ পড়লে বা তা আদায়ে বিভ্রান্তি দেখা দিলে নামাজের শুদ্ধতা বজায় রাখা এবং করণীয় স্পষ্ট করতে এই ফিকহি ব্যাখ্যা দিকনির্দেশনা দেয়।
আপনার কী করা উচিত?
- 1নামাজে কোনো সিজদা বাদ পড়লে দাঁড়ানো থেকে সরাসরি সিজদায় না গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠক নিশ্চিত করে সিজদা আদায় করা।
- 2যদি কেউ ভুলে না বসে সরাসরি সিজদা দিয়ে থাকেন, তবে সতর্কতা হিসেবে মতভেদ এড়াতে ওই নামাজ পুনরায় আদায় করা।
- 3নামাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর বৈঠক হয়েছিল কি না তা নিয়ে শুধু সন্দেহ হলে সেদিকে কান না দেওয়া।
সূত্র: IslamWeb










