যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় নানা বিভ্রান্তি ছড়ানো হলেও বাস্তবে দেশটির প্রায় ৬০ লাখ মুসলিমের কাছে এটি প্রাত্যহিক নৈতিকতা ও ধর্মীয় অনুশাসনের সমষ্টি। হাত ধোয়া ও শারীরিক পরিচ্ছন্নতা, দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, খাবার ও পোশাকে শালীনতা রক্ষা এবং পরস্পরকে শান্তির বার্তা দিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর মতো সাধারণ বিষয়গুলোই তাদের শরিয়াহ চর্চার মূল ভিত্তি।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী ব্যক্তিগত জীবনে এসব চর্চা থাকলেও মুসলিম আমেরিকানরা রাষ্ট্রীয় বা ফৌজদারি আইনে কোনো সমান্তরাল ব্যবস্থা চান না। শরিয়াহর নিয়ম অনুযায়ী সমাজের প্রচলিত আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব কেবল রাষ্ট্রের; সেখানে ব্যক্তিপর্যায়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া নিষিদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পৃথক মুসলিম আদালত নেই এবং মুসলিম সম্প্রদায়ও এমন কোনো ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছে না। ইহুদিদের 'বেথ দিন' আদালতের মতো ব্যবস্থাও মুসলিমদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তারা অন্যান্য সব মার্কিন নাগরিকের মতো দেশের মূল আইন ও সংবিধান মেনেই চলেন।
ব্যবসায় ও আর্থিক ক্ষেত্রেও শরিয়াহর প্রভাব ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে যুক্ত। সুদমুক্ত লেনদেনের নীতি থেকে উদ্ভূত ইসলামিক ফাইন্যান্স এখন বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় অস্ত্র, জুয়া বা মাদকের মতো ক্ষেত্রগুলো এড়িয়ে বিনিয়োগ করা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত বিভিন্ন বিশ্বাসভিত্তিক বিনিয়োগ তহবিলের মতোই সাধারণ মার্কিন আইনের অধীনে পরিচালিত হয়।
শরিয়াহ কোনো একক বা সংবিধিবদ্ধ আইনগ্রন্থ নয়, বরং এটি কুরআন ও নবীর শিক্ষার পাশাপাশি গত ১৪০০ বছরের বিভিন্ন বিচারিক মতামতের সমন্বয়। ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক মধ্যস্থতা বা হালাল অর্থায়নের মতো প্রচলিত ব্যক্তিগত অধিকারগুলোকে বিদেশি আইনের আগ্রাসন হিসেবে প্রচার করা হলে তা মূলত সাধারণ মুসলিমদের নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
শরিয়াহকে রাষ্ট্রীয় আইনের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যালঘু মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় চর্চা ও সাংবিধানিক সুরক্ষার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সূত্র: Sound Vision










