ইসলামিক নির্দেশনায় ব্যভিচার প্রতিরোধে কেবল অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর শাস্তির বিধানই রাখা হয়নি, বরং মানুষ যেভাবে এ ধরনের অপরাধের দিকে ধাবিত হয় সেই পথগুলো বন্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অন্তরের তাকওয়া, দৃষ্টি সংযত রাখা, শালীন পোশাক, নির্জনতা পরিহার, সহজ বিবাহব্যবস্থা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ তৈরির শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে ব্যভিচারের সূচনা রোধে প্রথম ধাপ হিসেবে দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ রয়েছে। সুরা নুরে মুমিন পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই দৃষ্টি নত রাখা এবং লজ্জাস্থানের হেফাজতের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাদিসে চোখ, কান, জিব ও অন্যান্য অঙ্গের অসংযম থেকেও সতর্ক করা হয়েছে, যা মানুষের মনে কামনা তৈরি করে।

সামাজিক পরিবেশকে শালীন রাখতে নারী-পুরুষের মেলামেশা ও পোশাকে সংযম বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। কোনো মাহরাম ছাড়া পুরুষ ও নারীর একান্তে বা নির্জনে অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে অপরাধের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি না হয়। একই সঙ্গে স্বাভাবিক মানবিক চাহিদার বৈধ মাধ্যম হিসেবে সামর্থ্যবান যুবকদের দ্রুত বিয়ে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সামর্থ্য না থাকলে রোজা রাখার নির্দেশনা রয়েছে। ইসলামে বিবাহব্যবস্থাকে সহজ ও অনড় জটিলতামুক্ত রাখার বিষয়েও উৎসাহিত করা হয়েছে।

অপরাধপ্রবণ ব্যক্তির মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর এবং সংশোধনের ক্ষেত্রেও নবীজির বিশেষ পদ্ধতি হাদিসে বর্ণিত রয়েছে। একবার এক যুবক ব্যভিচারের অনুমতি চাইলে নবীজি তাকে ধমক না দিয়ে যৌক্তিক আলোচনার মাধ্যমে তার বিবেক জাগ্রত করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন। এছাড়া ইসলামে অপরাধের বিচারের পাশাপাশি আন্তরিক তওবা ও আত্মসংশোধনের পথও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল দুনিয়ার নানা প্রলোভনের মুখে কেবল আইনের প্রয়োগ নয়, বরং নৈতিক শিক্ষা ও পারিবারিক সচেতনতাই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে ইসলামি নীতিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

ইসলামি শিক্ষা অনুসারে অপরাধ দমনে কেবল শাস্তিমূলক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; সামাজিক শালীনতা রক্ষা, প্ররোচনামূলক পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং আত্মসংযমের চর্চাই নৈতিক অবক্ষয় রোধের মূল ভিত্তি।

সূত্র: Prothom Alo