মাদ্রাসাগুলোতে ঘটা নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য মূলত অনুমোদনহীন ও মানহীন কিছু ভুঁইফোঁড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের অপরাধের দায় পুরো মাদ্রাসা ব্যবস্থার ওপর পড়ছে।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আবাসিক মাদ্রাসাগুলো লাখ লাখ এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীর আশ্রয়স্থল এবং দ্বীনি শিক্ষার মূল কেন্দ্র। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ও জনআস্থা বজায় রাখতে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং শীর্ষস্থানীয় আলেমদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি শিক্ষক নামধারী অপরাধীদের বাঁচাতে সত্য আড়াল করে, তবে তা পুরো ব্যবস্থার জন্য চূড়ান্ত ক্ষতি ডেকে আনবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। মাদ্রাসাগুলোতে অনাচার প্রতিরোধে তিনি আগেই ৩০ জনের বেশি শীর্ষ আলেমের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তা নিজের ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করেন।

বক্তব্যে টঙ্গীর সাম্প্রতিক একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ধর্ম অবমাননাসহ কোনো ইস্যুতেই ইসলাম আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সমর্থন করে না। তদন্ত ছাড়া ক্ষোভ প্রকাশ বা অপরাধ প্রমাণের আগেই শাস্তি দিলে পরে ভিন্ন বাস্তবতা সামনে এলে সেই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হয় না। তাই অনাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার পাশাপাশি সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের অনুরোধ জানান তিনি।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

মাদ্রাসার মতো সংবেদনশীল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিচারহীন ক্ষোভ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রোধে বিশিষ্ট আলেমদের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সূত্র: Daily Amader Shomoy