পাপ ও অবাধ্যতার কারণে মানুষের অন্তর নরম ভাব হারিয়ে কঠোর হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মানুষের অন্তর পাষাণের মতো কিংবা তার চেয়েও কঠিন হয়ে যেতে পারে। অন্তর কঠিন হয়ে পড়লে মানুষের আচরণ ও মানসিকতায় কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়।
প্রথমত, কঠোর অন্তরের মানুষের মধ্যে ইবাদতে চরম অলসতা দেখা দেয়। এমন অবস্থায় নামাজ পড়ার আগ্রহ কমে যায় কিংবা নামাজ আদায় করলেও মনে আল্লাহর ভয় থাকে না। নফল ও সুন্নত আদায়ে গাফিলতি তৈরি হয়। পবিত্র কোরআনে মুনাফিকদের চরিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, তারা নামাজে অলসতার সঙ্গে উপস্থিত হয় এবং সংকুচিত মনে দান করে।
দ্বিতীয়ত, কোরআনের আয়াত বা দ্বীনি উপদেশ শুনলেও অন্তর প্রভাবিত হয় না। বিশেষ করে শাস্তির কথা শুনেও কোনো ভীতি তৈরি হয় না; উল্টো কোরআন তিলাওয়াত করা বা শোনা নিজের কাছে ভারী মনে হয়। বিপরীতে সত্যিকারের মুমিনদের বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহর স্মরণ ও আয়াত পাঠের সময় তাদের অন্তর কেঁপে ওঠে এবং ঈমান বৃদ্ধি পায়।
তৃতীয়ত, জাগতিক বিপর্যয় বা বিপদ দেখেও শিক্ষা না নেওয়া কঠোর অন্তরের লক্ষণ। সাধারণত মানুষ আজাব-গজব বা আপনজনের মৃত্যু দেখলে ভীত হলেও কঠোর অন্তরের অধিকারী ব্যক্তি এমন পরিস্থিতিতেও তাওবা করে না কিংবা ভালো কাজের দিকে ফিরে আসে না। এছাড়া অন্তর কঠিন হলে দ্বীন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ হ্রাস পায়, যার ফলে নেক আমল করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সূত্র: Thikana News










