পবিত্র কোরআনে সৃষ্টিরহস্য, কুদরত এবং মানুষের প্রতি নিয়ামত বোঝাতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ও উদ্ভিদের আলোচনা এসেছে। এর অংশ হিসেবে কোরআনে উল্লেখিত প্রধান ছয়টি সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও বরকতময় ফলের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে, যা দুনিয়ার জীবনে উপকারী এবং জান্নাতিদের খাদ্য হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
কোরআনে সবচেয়ে বেশিবার এসেছে খেজুর বা 'নাখল'-এর প্রসঙ্গ। অন্তত ২০টি স্থানে এই ফলের কথা বলা হয়েছে। সুরা মরিয়মে প্রসববেদনার সময় মরিয়ম (আ.)-কে তাজা খেজুর খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশিষ্ট আলেম ইবনুল কাইয়িম আল-জাওজিয়্যার বিবরণ অনুযায়ী, খেজুর খাদ্য ও প্রতিষেধক হিসেবে দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। হাদিস শরীফে রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার আজওয়া খেজুরের সুরক্ষা ও পুষ্টিগুণের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
জয়তুনকে কোরআনে বরকতময় গাছ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যার তেলের উপমা সুরা নুরে ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া হাদিসে জয়তুনের তেল ব্যবহার ও শরীরে মাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আরবিতে 'তিন' নামে পরিচিত ডুমুর ফলের কসম করে আল্লাহ সুরা তিন শুরু করেছেন। ইমাম কুরতুবির বর্ণনা অনুসারে, এটি সহজে হজম হয় এবং পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সহায়ক।
ডালিম বা 'রুম্মান'-এর কথা সুরা রহমান ও সুরা আনআমে এসেছে, যেখানে এটি বেহেশতের নিয়ামত ও অনন্য সৃষ্টি হিসেবে বর্ণিত। এটি রক্তবর্ধক এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া কোরআনে প্রায় ১১ বার আঙুরের উল্লেখ এসেছে, যা খোদাভীরুদের জন্য জান্নাতি পুরস্কারের অন্যতম উদাহরণ। তাফসিরকারক ইবনে কাসিরের মতে, আঙুর কাঁচা কিংবা কিশমিশ আকারে শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। একইভাবে সুরা ওয়াকিয়াহতে উল্লেখিত 'তালহ' শব্দটিকে অধিকাংশ আলেম কলাগাছ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা সহজে শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়।
সূত্র: Daily Amader Shomoy










