ইসলামে নফল ইবাদতের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাতে কিছু সময় ঘুমানোর পর জেগে এই নামাজ আদায় করা হয়। হাদিস অনুযায়ী, ফরজ নামাজের পর রাতের নামাজই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ। সুনানে তিরমিজির একটি বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে, রাতের নামাজ বা কিয়ামুল লাইল আগের নেককার মানুষদের অভ্যাস, আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম এবং গুনাহ থেকে বিরত রাখার কারণ। কোরআনের সুরা মুজ্জাম্মিলেও রাতের একটি অংশে নামাজে দাঁড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ইশার নামাজের পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরুর আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ আদায় করা যায়। তবে রাতের শেষ ভাগ, বিশেষ করে ফজরের আগে সময়টিকে তাহাজ্জুদের জন্য সবচেয়ে উত্তম হিসেবে ধরা হয়। এই নামাজ আদায় করার জন্য ফজরের সময় শুরু হওয়ার আগেই তা শেষ করতে হবে।

তাহাজ্জুদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো রাকাতসংখ্যা বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণত দুই রাকাত করে এই নামাজ পড়া হয়। সামর্থ্য অনুযায়ী দুই রাকাত বা তার বেশি আদায় করা যেতে পারে। দীর্ঘ কিরাত পড়ে এবং ধীরস্থিরভাবে কোরআন তিলাওয়াত করে নামাজ আদায় করাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রাকাত সংখ্যার চেয়ে একাগ্রতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ইবাদত করাই মূল বিষয়।

নামাজের জন্য আলাদা কোনো আরবি বাক্য বা নির্দিষ্ট নিয়ত মুখস্থ করা জরুরি নয়। মনে মনে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের ইচ্ছাই নিয়ত হিসেবে যথেষ্ট।

সুনানে আবু দাউদের এক হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি নিজে তাহাজ্জুদ পড়ে এবং পরিবারের সদস্য বা স্ত্রীকে জাগিয়ে তোলে, তার ওপর রহমতের কথা এসেছে। তাহাজ্জুদ একটি নফল ইবাদত হওয়ায় এটি নিয়মিতভাবে অল্প করে হলেও শুরু করা এবং অভ্যাস ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: banglanews24.com