আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটার তালিকায় থাকা সম্ভাব্য ‘অ-নাগরিকদের’ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)। ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবারকে পাঠানো এক চিঠিতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেরিত তালিকাটি পর্যালোচনা করে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে জবাব না দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
চিঠিটির বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আর ট্রেন্ট ম্যাককটার এই চিঠি পাঠান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কর্মকর্তাদের কাছে পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত একটি থাম্ব ড্রাইভে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তালিকা দেওয়া হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এই ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের কাছে ইতিমধ্যে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয়েছে।
বিচার বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আর কোনো ব্যালট পাঠানো যাবে না এবং ইতিমধ্যে পাঠানো ব্যালটগুলো ফেরত আনতে হবে। কেউ ডাকযোগে ব্যালট ফেরত পাঠালে তা আলাদা করে রাখতে হবে এবং নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার আগে তা গণনা করা যাবে না। চিঠিতে ম্যাককটার উল্লেখ করেন, অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নাগরিকদের ভোটের গুরুত্ব কমিয়ে দেয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দেশটিতে অ-নাগরিকদের ভোটদানের প্রবণতা বাড়ছে। তবে গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের ঘটনা বিরল না হলেও তা ব্যাপক নয়। রয়টার্সের এক পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০০০ সাল থেকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সফটওয়্যার জটিলতা ও দাপ্তরিক ভুলের কারণে ভোটার তালিকায় ৩০ হাজারের বেশি অ-নাগরিকের নাম উঠেছিল, যদিও তাঁদের মধ্যে কতজন প্রকৃতপক্ষে ভোট দিয়েছেন তা স্পষ্ট নয়।
এর আগে জুলাই মাসে ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়ে বিচার বিভাগ সতর্ক করেছিল যে, জেনেশুনে অ-নাগরিকদের ভোটার তালিকায় রাখলে ফৌজদারি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। পরবর্তীতে ভোটারদের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ গোপনীয় তথ্য চেয়ে অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যের আপত্তির মুখে পড়ে সিভিল রাইটস ডিভিশন এবং এ সংক্রান্ত ৩০টি মামলার মধ্যে ২৬টিতেই হেরে যায় তারা।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা ব্যালট আটকে রাখার এই ফেডারেল পদক্ষেপে ডাকযোগে পাঠানো বৈধ ভোট গণনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনী কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ নিয়ে আইনি দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: Bangla New York










