বিয়ের আগে অর্জিত নিজস্ব অর্থ বা সম্পত্তি সাধারণত ব্যক্তিগত হিসেবে বজায় থাকে। তবে তা যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখলে এবং যৌথ মালিকানাধীন সম্পদে বিনিয়োগ করলে তার আইনি অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে। ফ্লোরিডার একটি বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় এমন রায় দিয়েছে অঙ্গরাজ্যটির সেকেন্ড ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট অব আপিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মেলিজা সি অ্যান্ডারসন ও লিল্যান্ড এ অ্যান্ডারসনের দাম্পত্য জীবন প্রায় দুই বছর স্থায়ী ছিল। বিয়ের আগে থেকেই জর্জিয়ায় একটি বাড়ি ছিল লিল্যান্ডের। বিয়ের পর তারা ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় নতুন বাড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য লিল্যান্ড তার জর্জিয়ার বাড়ি বিক্রি করে সেই অর্থ এবং চাকরির আয়ের একটি অংশ তাদের দুজনের যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করেন। পরবর্তীতে সেই যৌথ অ্যাকাউন্ট থেকে ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দুজনের যৌথ নামে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়।
বাড়ি নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই মেলিজা বিচ্ছেদের আবেদন করেন। লিল্যান্ড বাড়ি ছেড়ে চলে যান, তবে বিচার শুরু হওয়ার আগের দুই বছর ধরে তিনি নিয়মিত বন্ধক (মর্টগেজ) কিস্তি ও বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের অন্যান্য ব্যয় পরিশোধ করে আসছিলেন। ওই সময়ে মেলিজা বাড়িতে বসবাস করলেও কোনো আর্থিক অবদান রাখেননি। বিচারিক আদালতে লিল্যান্ড প্রাথমিক ডাউন পেমেন্ট এবং আলাদা থাকার সময়ে পরিশোধ করা ব্যয়ের আর্থিক ক্রেডিট দাবি করেন। বিচারিক আদালত দুটি দাবিই মঞ্জুর করেছিল, যার বিরুদ্ধে মেলিজা আপিল করেন।
আপিল আদালত জানায়, ফ্লোরিডার আইন অনুসারে আলাদাভাবে অর্জিত সম্পদ যৌথ তহবিলের সঙ্গে মেশানো হলে তার একক মর্যাদা নষ্ট হতে পারে। যৌথ অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করা হলে আইনিভাবে ধরে নেওয়া হয় যে ওই অর্থ উভয় পক্ষের যৌথ মালিকানায় চলে গেছে, যদি না সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিয়ে এর বিপরীত উদ্দেশ্য প্রমাণ করা যায়। লিল্যান্ড সেই প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হওয়ায় ডাউন পেমেন্টের অর্থকে বৈবাহিক সম্পত্তি ঘোষণা করে বিচারিক আদালতের ক্রেডিট প্রদানের অংশটি বাতিল করা হয়।
তবে বিচ্ছেদের পর আলাদা থাকা অবস্থায় লিল্যান্ড যে মর্টগেজ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ দিয়েছেন, তার ক্রেডিট আদালত বহাল রেখেছে। আদালত উল্লেখ করে, মেলিজার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো অবদান রাখেননি এবং তার অস্থায়ী সহায়তার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত হয়নি। আর্থিক নিষ্পত্তির হিসাব পুনরায় মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়ে মামলাটি বিচারিক আদালতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
এই রায়টি পরিষ্কার করে দেয় যে, বিয়ের আগের কোনো নিজস্ব সম্পদ বা অর্থ যৌথ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করলে এবং যৌথ মালিকানায় সম্পদ কেনা হলে তা বৈবাহিক সম্পত্তিতে রূপ নিতে পারে। ফলে বিবাহবিচ্ছেদের সময় প্রাথমিক অর্থ জমাদানকারী সেই তহবিলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা পৃথক ক্রেডিট হারানোর ঝুঁকিতে পড়েন।
সূত্র: The Times of India










