যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রগুলোর কাছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU)-সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসন ভোটারদের ভীতসন্ত্রস্ত করতে আইস এজেন্সিকে ব্যবহার করতে পারে, যার ফলে অনেক বৈধ ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।

১৮৬৫ সালের একটি মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী নির্বাচন কেন্দ্রে সশস্ত্র ফেডারেল এজেন্ট বা সেনাসদস্য মোতায়েন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে আইনটিতে শান্তি বজায় রাখা বা সশস্ত্র শত্রু মোকাবিলার মতো ব্যতিক্রমী শর্ত রয়েছে। এছাড়া ভোটারদের ভয় দেখানো বা নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করা ঠেকাতেও কঠোর আইন রয়েছে। তা সত্ত্বেও এবারের প্রাইমারি নির্বাচনের সময় টেক্সাসের সান আন্তোনিও এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ভেনচুরা কাউন্টিতে ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি আইস সদস্যদের নিয়মিত অভিযান চালানোর ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় পুলিশের আপত্তির পর তারা প্রত্যাহার করে নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীনস্থ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন্স (HSI) সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অন্তত নয়টি অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত তদন্ত শুরু করে। কিছু এজেন্ট বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেন। তবে এই সপ্তাহে একজন ফেডারেল বিচারক ওই মাঠপর্যায়ের তদন্ত স্থগিতের নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছেন, ভুলভাবে নাগরিক নন এমন ব্যক্তি শনাক্ত করার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে এবং এতে সাধারণ মার্কিন নাগরিকরাও অযথা হয়রানি ও ভীতির শিকার হতে পারেন।

নির্বাচনের দিন আইস মোতায়েনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেননি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন জানান, আইস ভোটকেন্দ্রে নিয়মিত টহল দেবে না, তবে কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি থাকলে বা কারও বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করতে হলে তারা সেখানে উপস্থিত হতে পারে। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের অংশ হিসেবে আইসের সদস্যসংখ্যা প্রায় ১২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২২ হাজারে পৌঁছেছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

ভোটারদের নাগরিকত্ব নিয়ে মাঠপর্যায়ের যাচাই এবং ভোটকেন্দ্রের কাছে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতির আশঙ্কা ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া ও উপস্থিতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ফেডারেল আইন থাকা সত্ত্বেও আইস এজেন্সির কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও নির্বাচন ঘিরে তাদের ব্যবহারের ইঙ্গিত নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সূত্র: Al Jazeera English